ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে জ/ঙ্গি খ্যাত সেই তনিম এবার ধ/র্ষণ মামলায় আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১১:০৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / ১৭ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি;

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এবার আটক হয়েছেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের যশোর জেলা কমান্ডার খ্যাত তওসিকুল ইসলাম বিশ্বাস ওরফে তনিম বিশ্বাস। সোমবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক তনিম শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার বিশ্বাসপাড়ার মৃত ওহিদুল বিশ্বাসের ছেলে। এর আগে ২০২১ সালে চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মুখে অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পরে ২০২২ সালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে আসা বিশেষ বাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর জানা যায়, তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের যশোর জেলা কমান্ডার। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। দুই বছর কারাভোগের পর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। সর্বশেষ সোমবার রাতে তাকে আবারও নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

ভুক্তভোগীর দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর তনিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাড়ে চার বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিনি জানতে পারেন, তনিমের বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২০ এপ্রিলের পর থেকে তনিম প্রায়ই রাতে বাড়ির বাইরে থাকতেন। মাঝে মধ্যে বাড়িতে এসে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। গত ৩ মে রাতেও তিনি বাড়িতে এসে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরদিন ৪ মে তনিম জানান, তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন। এ সময় তার হাতে একটি কাগজ তুলে দেওয়া হয়, যেখানে দেখা যায় ২৬ এপ্রিল তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। পরে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য তাকে মারধর করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত তনিম তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। আটকের পর মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, তনিম কারাগারে থাকার সময় তার পেছনে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি আরও একটি বিয়ে করেন। এছাড়া ওষুধ ব্যবসার কথা বলে তাদের কাছ থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

যশোরে জ/ঙ্গি খ্যাত সেই তনিম এবার ধ/র্ষণ মামলায় আটক

Update Time : ১১:০৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি;

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এবার আটক হয়েছেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের যশোর জেলা কমান্ডার খ্যাত তওসিকুল ইসলাম বিশ্বাস ওরফে তনিম বিশ্বাস। সোমবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক তনিম শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার বিশ্বাসপাড়ার মৃত ওহিদুল বিশ্বাসের ছেলে। এর আগে ২০২১ সালে চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মুখে অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পরে ২০২২ সালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে আসা বিশেষ বাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর জানা যায়, তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের যশোর জেলা কমান্ডার। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। দুই বছর কারাভোগের পর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। সর্বশেষ সোমবার রাতে তাকে আবারও নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

ভুক্তভোগীর দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর তনিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাড়ে চার বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিনি জানতে পারেন, তনিমের বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২০ এপ্রিলের পর থেকে তনিম প্রায়ই রাতে বাড়ির বাইরে থাকতেন। মাঝে মধ্যে বাড়িতে এসে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। গত ৩ মে রাতেও তিনি বাড়িতে এসে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরদিন ৪ মে তনিম জানান, তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন। এ সময় তার হাতে একটি কাগজ তুলে দেওয়া হয়, যেখানে দেখা যায় ২৬ এপ্রিল তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। পরে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য তাকে মারধর করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত তনিম তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। আটকের পর মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, তনিম কারাগারে থাকার সময় তার পেছনে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি আরও একটি বিয়ে করেন। এছাড়া ওষুধ ব্যবসার কথা বলে তাদের কাছ থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।