নারায়ণগঞ্জে আতঙ্কের নাম ‘কিশোর গ্যাং’: বেপরোয়া তাণ্ডবে জিম্মি সাধারণ মানুষ
- Update Time : ০৭:৪৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ৮ Time View

আবু তালেব স্টাফ, রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে এখন এক আতঙ্কের নাম ‘কিশোর গ্যাং’। তেরো থেকে আঠারো বছর বয়সী কিশোরদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের চাষাড়া থেকে শুরু করে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ কিংবা বন্দর—কোথাও মিলছে না স্বস্তি। রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’দের ছত্রছায়ায় এই কিশোররা এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাড়া-মহল্লার অলিগলি এখন এই কিশোর গ্যাংয়ের দখলে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এদের দাপট আরও বেড়ে যায়। নির্জন রাস্তা তো বটেই, জনবহুল এলাকাতেও ছিনতাই ও চাঁদাবাজি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, নির্দিষ্ট সময় পরপর এই গ্যাংয়ের সদস্যদের চাঁদা না দিলে দোকানপাট ভাঙচুরসহ নানা হুমকির শিকার হতে হয়।
পাড়া-মহল্লার অন্ধকার মোড়গুলোতে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও কেনাবেচায় জড়িয়ে পড়ছে এই কিশোররা। ফলে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় স্কুল-কলেজের সামনে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে ওঁত পেতে থাকা এই গ্যাং সদস্যরা ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত বা ইভটিজিং করে। প্রতিবাদ করলে লিপ্ত হয় সংঘর্ষে।
সামান্য কথা কাটাকাটি বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করছে না তারা। গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কিত অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও তথাকথিত ‘বড় ভাই’রা নিজেদের স্বার্থে এই কিশোরদের ব্যবহার করছে। মিছিলে লোক বাড়ানো কিংবা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এই কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই রাজনৈতিক সুরক্ষাই তাদের আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার সাহস জোগাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। কিশোর গ্যাং নির্মূলে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাতে নারায়ণগঞ্জ আবারও নিরাপদ ও শান্ত জনপদে পরিণত হয়।



















