অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ভিসা প্রতারণার অভিযোগে তাঁতী লীগ নেতাসহ ৬ জন গ্রেফতার
- Update Time : ০৯:১৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২২ Time View

কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী প্রতিনিধি
অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে যুবকদের ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের খোলাহাটি মুক্তা হিমাগার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস আটক করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন নিতাই কাছারীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সাহাবুল ইসলাম সাবুল (২৪), নীলফামারী সদরের বাটুলটারী গ্রামের মোখলেচার রহমানের ছেলে সাজু মিয়া (২৮), মেচকার আলীর ছেলে আজিনুর ইসলাম (২৪), এমলাক হোসেনের ছেলে ইলিয়াছ মিয়া (২৪), মাইক্রোবাসচালক সজিব মিয়া (২৬) এবং হেলপার সাফিউল ইসলাম (২৮)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট, অস্ট্রেলিয়ার ভিসার দুটি আবেদনপত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোনে বিপুলসংখ্যক কথিত ভুয়া ভিসার কপি পাওয়া গেছে। এছাড়া অনলাইনে জুয়া খেলার কিছু আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল গফুর।
ওসি আব্দুল গফুর জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কয়েকজন ভিসা প্রতারক যশোর থেকে মাইক্রোবাসযোগে ফিরছেন। পরে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি আটক করে। এ সময় সাহাবুল ইসলামসহ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ও অনলাইন জুয়া আইনে পৃথক দুটি মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহাবুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে থাই লটারিতে বিজয়ী করে দেওয়ার প্রলোভন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা করে উচ্চ বেতনের চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জেলার যুবক ও প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি সাহাবুল ইসলামকে থাই লটারি ও ভিসা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও একই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন বলে পুলিশের দাবি।
ওসি আব্দুল গফুর আরও জানান, গ্রেফতার ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

























