👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চেম্বার করায় পায়তারা করছেন ভুয়া সাইকিয়্যাট্রি এম সাইফুল

মাসুদ রানা, যশোর
  • Update Time : ০৪:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৮ Time View
Print

মাসুদ রানা (যশোর)থেকে:দেশের জনপ্রিয় ‘দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র’ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও ফের একই কারবার শুরু করেছেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয়দানকারী কথিত ডাক্তার এম সাইফুল ইসলাম। নানা ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন তিনি।
শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনি রোগীদের সিরিয়াল নিয়েছেন। শনিবার পুনরায় চেম্বার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে তার ওই প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জানা যায়, এম সাইফুল ইসলাম মূলত বিশিষ্ট মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার সালেমীর হোসেন চৌধুরীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। সপ্তাহে এক দিন ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের রোগী দেখার কথা থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই তিনি যশোর আসতেন না। ভিডিও কলের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে তিনি রোগী দেখাতেন এবং ব্যবস্থাপত্র লিখে দিতেন এম সাইফুল ইসলাম। অনেক সময় তিনি নিজেই ঢাকার চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে দিতেন।
শহরের আর এন রোড এলাকার ‘মেডিনোভা ব্রেন ও মনোরোগ সেন্টার’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের রিসিপশনের সামনে এখনো অধ্যাপক ডাক্তার সালেমীর হোসেন চৌধুরীর প্যাড রাখা হয়েছে, যা মূলত রোগীদের সিরিয়াল বাগানোর ফাঁদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে যে ডাক্তার ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বসেন না, তার প্যাড সেখানে রেখে দেয়ার কারন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, অধ্যাপক ডাক্তার সালেমীর হোসেন চৌধুরী তার চেম্বারে আসা বন্ধ করে দিলে এম সাইফুল ইসলাম নিজেই পুরোদমে রোগী দেখা শুরু করেন। তিনি মূলত একজন ডিএমএফ (ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ডিগ্রিধারী। অথচ তিনি নিজেকে মানসিক, নিউরোলজি, শিশু মনোরোগ, গোপন রোগ, মৃগী রোগ ও মাথাব্যথার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।
প্রাথমিক জীবনে রোগীদের আকৃষ্ট করতে তিনি নানা ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করতেন। এমনকি ‘এফআরএইচএস (ইন্ডিয়া)’ ডিগ্রিও ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একাধিক রোগী সিভিল সার্জন অফিসে অভিযোগ করলে দু’দফা অভিযান পরিচালনা করা হয়, তবে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনি ঝামেলা এড়াতে তিনি বর্তমানে ডিএমএফ (ঢাকা) এবং ডব্লিউপিএসি (সাইকিয়াট্রি) ডিগ্রি ব্যবহার করছেন। যার মধ্যে ‘ডব্লিউপিএসি (সাইকিয়াট্রি)’ সম্পূর্ণ ভুয়াা

একটি ডিগ্রি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এম সাইফুল ইসলাম ডিএমএফ পাস হলেও তিনি কেবল প্রাথমিক ও সাধারণ চিকিৎসা দিতে পারেন। কিন্তু তিনি বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে নতুন রোগীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা এবং পুরাতন রোগীদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা ভিজিট আদায় করছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তিনি ব্যবস্থাপত্রে যেসব ওষুধ লিখে থাকেন, তার বেশিরভাগই নামসর্বস্ব বা অজ্ঞাত কোম্পানির। তার চেম্বারের ঠিক সামনেই তার ভাই বাচ্চুর একটি ফার্মেসি রয়েছে, যেখান ছাড়া ওইসব ওষুধ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তিনি রোগীদের একাধারে অ্যালোপ্যাথি, ইউনানি ও চাঁদশি ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখে আসছেন।

শুক্রবার এম সাইফুল ইসলামের চেম্বারে পাওয়া যায়নি। তবে, তার ভাই ও ফার্মেসি মালিক বাচ্চু জানান, সাইফুলের বক্তব্য নিতে হলে শনিবার দুপুর ২টার সময় আসতে হবে, কারণ ওইদিন তিনি রোগী দেখবেন।

এ বিষয়ে যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, এম সাইফুল ইসলাম কোনো ডাক্তার নন। মূলত তিনি একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

চেম্বার করায় পায়তারা করছেন ভুয়া সাইকিয়্যাট্রি এম সাইফুল

Update Time : ০৪:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
Print

মাসুদ রানা (যশোর)থেকে:দেশের জনপ্রিয় ‘দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র’ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও ফের একই কারবার শুরু করেছেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয়দানকারী কথিত ডাক্তার এম সাইফুল ইসলাম। নানা ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন তিনি।
শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনি রোগীদের সিরিয়াল নিয়েছেন। শনিবার পুনরায় চেম্বার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে তার ওই প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জানা যায়, এম সাইফুল ইসলাম মূলত বিশিষ্ট মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার সালেমীর হোসেন চৌধুরীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। সপ্তাহে এক দিন ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের রোগী দেখার কথা থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই তিনি যশোর আসতেন না। ভিডিও কলের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে তিনি রোগী দেখাতেন এবং ব্যবস্থাপত্র লিখে দিতেন এম সাইফুল ইসলাম। অনেক সময় তিনি নিজেই ঢাকার চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে দিতেন।
শহরের আর এন রোড এলাকার ‘মেডিনোভা ব্রেন ও মনোরোগ সেন্টার’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের রিসিপশনের সামনে এখনো অধ্যাপক ডাক্তার সালেমীর হোসেন চৌধুরীর প্যাড রাখা হয়েছে, যা মূলত রোগীদের সিরিয়াল বাগানোর ফাঁদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে যে ডাক্তার ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বসেন না, তার প্যাড সেখানে রেখে দেয়ার কারন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, অধ্যাপক ডাক্তার সালেমীর হোসেন চৌধুরী তার চেম্বারে আসা বন্ধ করে দিলে এম সাইফুল ইসলাম নিজেই পুরোদমে রোগী দেখা শুরু করেন। তিনি মূলত একজন ডিএমএফ (ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ডিগ্রিধারী। অথচ তিনি নিজেকে মানসিক, নিউরোলজি, শিশু মনোরোগ, গোপন রোগ, মৃগী রোগ ও মাথাব্যথার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।
প্রাথমিক জীবনে রোগীদের আকৃষ্ট করতে তিনি নানা ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করতেন। এমনকি ‘এফআরএইচএস (ইন্ডিয়া)’ ডিগ্রিও ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একাধিক রোগী সিভিল সার্জন অফিসে অভিযোগ করলে দু’দফা অভিযান পরিচালনা করা হয়, তবে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনি ঝামেলা এড়াতে তিনি বর্তমানে ডিএমএফ (ঢাকা) এবং ডব্লিউপিএসি (সাইকিয়াট্রি) ডিগ্রি ব্যবহার করছেন। যার মধ্যে ‘ডব্লিউপিএসি (সাইকিয়াট্রি)’ সম্পূর্ণ ভুয়াা

একটি ডিগ্রি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এম সাইফুল ইসলাম ডিএমএফ পাস হলেও তিনি কেবল প্রাথমিক ও সাধারণ চিকিৎসা দিতে পারেন। কিন্তু তিনি বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে নতুন রোগীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা এবং পুরাতন রোগীদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা ভিজিট আদায় করছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তিনি ব্যবস্থাপত্রে যেসব ওষুধ লিখে থাকেন, তার বেশিরভাগই নামসর্বস্ব বা অজ্ঞাত কোম্পানির। তার চেম্বারের ঠিক সামনেই তার ভাই বাচ্চুর একটি ফার্মেসি রয়েছে, যেখান ছাড়া ওইসব ওষুধ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তিনি রোগীদের একাধারে অ্যালোপ্যাথি, ইউনানি ও চাঁদশি ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখে আসছেন।

শুক্রবার এম সাইফুল ইসলামের চেম্বারে পাওয়া যায়নি। তবে, তার ভাই ও ফার্মেসি মালিক বাচ্চু জানান, সাইফুলের বক্তব্য নিতে হলে শনিবার দুপুর ২টার সময় আসতে হবে, কারণ ওইদিন তিনি রোগী দেখবেন।

এ বিষয়ে যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, এম সাইফুল ইসলাম কোনো ডাক্তার নন। মূলত তিনি একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।