ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফতুল্লায় এখন ঘরের ভেতর নদী, খাটের ওপর সংসার: লাখো মানুষের চোখে জল!

Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / ২৫ Time View
Print

আবু তালেব স্টাফ রিপোর্টার ​নারায়ণগঞ্জ :

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সিংহভাগ এলাকা। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—সবখানেই এখন থৈ থৈ করছে পানি। শুধু রাস্তাঘাটই নয়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও স্যুয়ারেজ লাইনের ময়লা পানি প্রবেশ করেছে মানুষের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ফলে চরম দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ।

​যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার ডিএনডি বাঁধের ভেতরের এলাকাগুলোর অবস্থা সবচেয়ে করুণ। এর মধ্যে রয়েছে:
• ​লালপুর, সস্তাপুর, ও কায়েমপুর
• ​পোস্ট অফিস রোড, শিবু মার্কেট ও হাজিগঞ্জ
• ​দেলপাড়া, তক্কার মাঠ এবং কুতুবপুরের বেশ কিছু এলাকা
​অনেক এলাকায় প্রধান সড়কগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে রয়েছে। ফলে রিকশা বা ইজিবাইক চলাচলও প্রায় বন্ধ।

​বাসাবাড়িতে ময়লা পানি, রান্নাবান্না বন্ধ
​হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে ফতুল্লার নিচু এলাকার কয়েক হাজার বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। ড্রেনের নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ায় নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। অনেক পরিবারে রান্নাবান্না পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে।
​”ঘরের ভেতর হাঁটু পানি। খাটের ওপর চাল-ডাল নিয়ে বসে আছি। ড্রেনের পচা পানির গন্ধে ঘরে টেকা যাচ্ছে না। গত দুদিন ধরে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করতে পারছি না।”
— লালপুর এলাকার এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা

চরম ভোগান্তিতে কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা
​ফতুল্লা একটি শিল্পপ্রধান এলাকা হওয়ায় এখানে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক বসবাস করেন। সকালে নোংরা পানি মাড়িয়েই তাদের কারখানায় যেতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি এখন চরমে। গণপরিবহন সংকটের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। সুযোগ বুঝে রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা দ্বিগুণ-ত্রিগুণ ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​স্থায়ী সমাধানের দাবি
​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই ফতুল্লায় এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়। ডিএনডি প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় এই ভোগান্তি প্রতিবছরের স্থায়ী নিয়মে পরিণত হয়েছে।
​এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করা হোক এবং ফতুল্লাকে এই দীর্ঘমেয়াদী অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ফতুল্লায় এখন ঘরের ভেতর নদী, খাটের ওপর সংসার: লাখো মানুষের চোখে জল!

Update Time : ১১:০৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
Print

আবু তালেব স্টাফ রিপোর্টার ​নারায়ণগঞ্জ :

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সিংহভাগ এলাকা। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—সবখানেই এখন থৈ থৈ করছে পানি। শুধু রাস্তাঘাটই নয়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও স্যুয়ারেজ লাইনের ময়লা পানি প্রবেশ করেছে মানুষের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ফলে চরম দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ।

​যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার ডিএনডি বাঁধের ভেতরের এলাকাগুলোর অবস্থা সবচেয়ে করুণ। এর মধ্যে রয়েছে:
• ​লালপুর, সস্তাপুর, ও কায়েমপুর
• ​পোস্ট অফিস রোড, শিবু মার্কেট ও হাজিগঞ্জ
• ​দেলপাড়া, তক্কার মাঠ এবং কুতুবপুরের বেশ কিছু এলাকা
​অনেক এলাকায় প্রধান সড়কগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে রয়েছে। ফলে রিকশা বা ইজিবাইক চলাচলও প্রায় বন্ধ।

​বাসাবাড়িতে ময়লা পানি, রান্নাবান্না বন্ধ
​হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে ফতুল্লার নিচু এলাকার কয়েক হাজার বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। ড্রেনের নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ায় নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। অনেক পরিবারে রান্নাবান্না পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে।
​”ঘরের ভেতর হাঁটু পানি। খাটের ওপর চাল-ডাল নিয়ে বসে আছি। ড্রেনের পচা পানির গন্ধে ঘরে টেকা যাচ্ছে না। গত দুদিন ধরে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করতে পারছি না।”
— লালপুর এলাকার এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা

চরম ভোগান্তিতে কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা
​ফতুল্লা একটি শিল্পপ্রধান এলাকা হওয়ায় এখানে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক বসবাস করেন। সকালে নোংরা পানি মাড়িয়েই তাদের কারখানায় যেতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি এখন চরমে। গণপরিবহন সংকটের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। সুযোগ বুঝে রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা দ্বিগুণ-ত্রিগুণ ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​স্থায়ী সমাধানের দাবি
​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই ফতুল্লায় এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়। ডিএনডি প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় এই ভোগান্তি প্রতিবছরের স্থায়ী নিয়মে পরিণত হয়েছে।
​এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করা হোক এবং ফতুল্লাকে এই দীর্ঘমেয়াদী অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।