সেনা হেফাজতে ডাবলু হত্যা মামলা: জীবননগরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিআইডির ডিআইজি
- Update Time : ০৮:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / ৯২ Time View

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে নিহত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু হত্যা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিআইডির (খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নূর।
আজ সোমবার (২৯ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে তাঁর নেতৃত্বে সিআইডির একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল জীবননগরে পৌঁছায়। দলটি নিহত ডাবলুকে আটক করার স্থান এবং পরবর্তীতে যেখানে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল, সেসব ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেন সিআইডি কর্মকর্তারা।
তদন্ত দলের পরিদর্শনকালে নিহত শামসুজ্জামান ডাবলুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন— জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দীন ময়েন এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি রাতে চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের একটি দল জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ডাবলুর নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেয়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই রাতেই দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে শামসুজ্জামান ডাবলুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। ময়নাতদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখিত আঘাতের চিহ্নের সাথে মরদেহে পাওয়া দাগের স্পষ্ট মিল রয়েছে এবং আঘাতগুলো মৃত্যুর কারণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
এই নৃশংস ঘটনার দীর্ঘ ৫ মাস পর, গত ১৯ জুন আদালতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল ফাহাদকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া, যাঁর হেফাজতে থাকা অবস্থায় ডাবলুর মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ— সেই ক্যাপ্টেন সৌমিকসহ আরও ৮ জনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে মামলার আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ডাবলুর পরিবার।
নিহত ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন আক্তার বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটি মাসুম সন্তানকে এতিম করা হয়েছে। আমি রাষ্ট্র ও আদালতের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক এবং সঠিক বিচার চাই।”
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডির এই উচ্চপর্যায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকে মামলার ইতিবাচক অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ।



















