👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র মাটিয়ান গ্রাম, আহত ৩০

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৯:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০ Time View
Print

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ):সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মাটিয়ান গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং সাবেক ইউপি সদস্য কাঁচা মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে একটি নারীঘটিত বিষয় নিয়ে মাটিয়ান গ্রামের কাঁচা মিয়ার সমর্থক মনসুর মিয়ার ছেলে ইমন আহমেদের (২৩) সাথে নুরুল ইসলামের লোকজনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও সম্প্রতি ওই ঘটনা নিয়ে ইমন ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ফেসবুকেই পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এর জের ধরে বাস্তবেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সালিশের পরও উত্তেজনা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুনরায় একটি সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হয়। কিন্তু সালিশ শেষ হলেও মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে দু’পক্ষের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখুঞ্জি জানান, “আমরা দু’পক্ষকে অনেক বুঝিয়েও শান্ত করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত দুপুরের দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”
আহত ও চিকিৎসা
সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০ জনকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে নুরুল ইসলামের পক্ষের রিফাত মিয়া (২০) এবং কাঁচা মিয়ার পক্ষের শাহীনুর মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য
খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার ডিউটিতে পুলিশ ব্যস্ত থাকলেও খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সুনামগঞ্জে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র মাটিয়ান গ্রাম, আহত ৩০

Update Time : ০৯:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
Print

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ):সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মাটিয়ান গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং সাবেক ইউপি সদস্য কাঁচা মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে একটি নারীঘটিত বিষয় নিয়ে মাটিয়ান গ্রামের কাঁচা মিয়ার সমর্থক মনসুর মিয়ার ছেলে ইমন আহমেদের (২৩) সাথে নুরুল ইসলামের লোকজনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও সম্প্রতি ওই ঘটনা নিয়ে ইমন ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ফেসবুকেই পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এর জের ধরে বাস্তবেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সালিশের পরও উত্তেজনা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুনরায় একটি সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হয়। কিন্তু সালিশ শেষ হলেও মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে দু’পক্ষের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখুঞ্জি জানান, “আমরা দু’পক্ষকে অনেক বুঝিয়েও শান্ত করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত দুপুরের দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”
আহত ও চিকিৎসা
সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০ জনকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে নুরুল ইসলামের পক্ষের রিফাত মিয়া (২০) এবং কাঁচা মিয়ার পক্ষের শাহীনুর মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য
খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার ডিউটিতে পুলিশ ব্যস্ত থাকলেও খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।