ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যে রাজাপুরে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১১:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১১ Time View
Print

মোঃ কামরুল হাসান রানা,রাজাপুর ,ঝালকাঠী:

ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় শান্তি, সহনশীলতা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “সম্প্রীতির সমাবেশ” অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলের সভাকক্ষে রাজাপুর পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ আয়োজনটি দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (MIPS) প্রকল্পের আওতায়, এফসিডিও’র আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিএফজির কো-অর্ডিনেটর ও উন্নয়ন সংগঠন সাইডোর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হোসাইন আহমেদ কামাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিএফজি অ্যাম্বাসেডর এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, রাজাপুর শাখার সহ-সভাপতি মো. আল আমীন রুম্মান।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল আলম বাবুল (রাজাপুর সরকারি কলেজ), সাবেক সিনিয়র শিক্ষক মো. ফারুক ছিদ্দিকী (রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়) ও পরিচালক, বসুন্ধরা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ্দুজামান পনির, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্পাদক নিত্যানন্দ সাহা, পিএফজি সদস্য ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল কর্মকার, পিএফজি সদস্য ও পুরোহিত কমিটির সহ-সভাপতি কঞ্জন কান্তি চক্রবর্তী, পিএফজি অ্যাম্বাসেডর ও জাতীয় পার্টির সভাপতি কামরুল ইসলাম দুলাল, রাজাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মইনুল হক লিপু,রাজাপুর প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ কামরুল হাসান রানা, ওয়াইপিএজি-এর সহ-সমন্বয়কারী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি আল আমিন, ছাত্রসমাজের সদস্য সাইফুল ইসলাম সাব্বির, কলেজ শিক্ষার্থী তামিরা তারেক ইভা, সানজিদা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার লিজাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তরুণ প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, এ ধরনের সমাবেশ সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ হোসাইন আহমেদ কামাল বলেন, “শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা কোনো একক গোষ্ঠীর কাজ নয়—এটি সবার সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। রাজাপুরকে একটি সহনশীল ও সম্প্রীতিময় মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, “ধর্ম, মত বা রাজনৈতিক ভিন্নতা আমাদের বিভক্ত করার জন্য নয়; বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের মাধ্যমে আমরা একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তুলতে পারি। সব ধর্মের মানুষ একসাথে বসে যখন শান্তির কথা বলে, তখনই প্রকৃত সম্প্রীতির ভিত্তি তৈরি হয়। এই উদ্যোগ আমাদের মধ্যে আস্থা ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেছে।”
সমাবেশে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তারা “সম্প্রীতির রাজাপুর” গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. রেজবিউল কবির।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যে রাজাপুরে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Update Time : ১১:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Print

মোঃ কামরুল হাসান রানা,রাজাপুর ,ঝালকাঠী:

ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় শান্তি, সহনশীলতা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “সম্প্রীতির সমাবেশ” অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলের সভাকক্ষে রাজাপুর পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ আয়োজনটি দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (MIPS) প্রকল্পের আওতায়, এফসিডিও’র আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিএফজির কো-অর্ডিনেটর ও উন্নয়ন সংগঠন সাইডোর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হোসাইন আহমেদ কামাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিএফজি অ্যাম্বাসেডর এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, রাজাপুর শাখার সহ-সভাপতি মো. আল আমীন রুম্মান।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল আলম বাবুল (রাজাপুর সরকারি কলেজ), সাবেক সিনিয়র শিক্ষক মো. ফারুক ছিদ্দিকী (রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়) ও পরিচালক, বসুন্ধরা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ্দুজামান পনির, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্পাদক নিত্যানন্দ সাহা, পিএফজি সদস্য ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল কর্মকার, পিএফজি সদস্য ও পুরোহিত কমিটির সহ-সভাপতি কঞ্জন কান্তি চক্রবর্তী, পিএফজি অ্যাম্বাসেডর ও জাতীয় পার্টির সভাপতি কামরুল ইসলাম দুলাল, রাজাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মইনুল হক লিপু,রাজাপুর প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ কামরুল হাসান রানা, ওয়াইপিএজি-এর সহ-সমন্বয়কারী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি আল আমিন, ছাত্রসমাজের সদস্য সাইফুল ইসলাম সাব্বির, কলেজ শিক্ষার্থী তামিরা তারেক ইভা, সানজিদা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার লিজাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তরুণ প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, এ ধরনের সমাবেশ সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ হোসাইন আহমেদ কামাল বলেন, “শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা কোনো একক গোষ্ঠীর কাজ নয়—এটি সবার সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। রাজাপুরকে একটি সহনশীল ও সম্প্রীতিময় মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, “ধর্ম, মত বা রাজনৈতিক ভিন্নতা আমাদের বিভক্ত করার জন্য নয়; বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের মাধ্যমে আমরা একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তুলতে পারি। সব ধর্মের মানুষ একসাথে বসে যখন শান্তির কথা বলে, তখনই প্রকৃত সম্প্রীতির ভিত্তি তৈরি হয়। এই উদ্যোগ আমাদের মধ্যে আস্থা ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেছে।”
সমাবেশে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তারা “সম্প্রীতির রাজাপুর” গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. রেজবিউল কবির।