ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধে লংমার্চ ফর ফরেস্ট কর্মসুচি পালন

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / ১১ Time View
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুর্নজন্ম প্রক্রিয়া রক্ষায় নদীর চরে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধের দাবিতে ‘লংমার্চ ফর ফরেস্ট’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ৩০ জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় গ্রীন কোয়ালিশন ও শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশনের উদ্যোগে গ্রীন কোয়ালিশন জেলা সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দিন সিদ্দীকির নেতৃত্বে নীলডুমুর থেকে বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইউএনও ও এসিএফ এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত একটি প্রাকৃতিক আশ্রয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সুন্দরবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই সুন্দরবনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া রক্ষা করা সময়ের দাবি।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনের নদীতে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা বনজ বীজ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাকৃতিকভাবে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সৃষ্টি করে। এসব বীজ নির্বিচারে সংগ্রহ করা হলে সুন্দরবনের স্বাভাবিক পুর্নজন্ম বাধাগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বনপ্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। শ্যামনগর উপজেলা নদীবেষ্টিত বিভিন্ন এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন সংলগ্ন নদী থেকে ভেসে আসা বনজ ফল ও বীজ সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে নতুন গাছ জন্মানোর সুযোগ কমে যাচ্ছে। একটি বীজের স্বাভাবিক বিকাশ বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়, বরং উপকূলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলা। স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধ করা, বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা, সিপিজি, ডিসিটি, ভিটিআরটি ও ভিসিএফ সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা তৈরিতে আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং কার্যক্রম চালু রাখা এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণ ও যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সাতক্ষীরা নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জী, ডিবিসি নিউজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম বেলাল হোসাইন, মানবজমিনের শ্যামনগর প্রতিনিধি জাহিদ সুমন, আমাদের সময়ের শ্যামনগর প্রতিনিধি বেলাল হোসেন, পত্রদুতের উপকুলীয় প্রতিনিধি আব্দুল হালিম, বনজীবী নারী নেত্রী শেফালী বিবি, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম, স ম ওসমান গনী, জান্নাতুল নাঈম প্রমূখ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শ্যামনগরে সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধে লংমার্চ ফর ফরেস্ট কর্মসুচি পালন

Update Time : ১১:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুর্নজন্ম প্রক্রিয়া রক্ষায় নদীর চরে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধের দাবিতে ‘লংমার্চ ফর ফরেস্ট’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ৩০ জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় গ্রীন কোয়ালিশন ও শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশনের উদ্যোগে গ্রীন কোয়ালিশন জেলা সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দিন সিদ্দীকির নেতৃত্বে নীলডুমুর থেকে বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইউএনও ও এসিএফ এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত একটি প্রাকৃতিক আশ্রয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সুন্দরবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই সুন্দরবনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া রক্ষা করা সময়ের দাবি।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনের নদীতে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা বনজ বীজ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাকৃতিকভাবে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সৃষ্টি করে। এসব বীজ নির্বিচারে সংগ্রহ করা হলে সুন্দরবনের স্বাভাবিক পুর্নজন্ম বাধাগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বনপ্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। শ্যামনগর উপজেলা নদীবেষ্টিত বিভিন্ন এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন সংলগ্ন নদী থেকে ভেসে আসা বনজ ফল ও বীজ সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে নতুন গাছ জন্মানোর সুযোগ কমে যাচ্ছে। একটি বীজের স্বাভাবিক বিকাশ বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়, বরং উপকূলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলা। স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা বনজ বীজ সংগ্রহ বন্ধ করা, বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা, সিপিজি, ডিসিটি, ভিটিআরটি ও ভিসিএফ সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা তৈরিতে আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং কার্যক্রম চালু রাখা এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণ ও যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সাতক্ষীরা নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জী, ডিবিসি নিউজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম বেলাল হোসাইন, মানবজমিনের শ্যামনগর প্রতিনিধি জাহিদ সুমন, আমাদের সময়ের শ্যামনগর প্রতিনিধি বেলাল হোসেন, পত্রদুতের উপকুলীয় প্রতিনিধি আব্দুল হালিম, বনজীবী নারী নেত্রী শেফালী বিবি, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম, স ম ওসমান গনী, জান্নাতুল নাঈম প্রমূখ।