পরকীয়া প্রেমিকা ময়নার: ৪২ দিনে তিন বিয়ে, দুই তালাক; প্রশ্নের মুখে সুশীল সমাজ
- Update Time : ১০:১৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / ৩৮ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চর শিমলা গ্রামে এক নারীকে ঘিরে মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে তিনটি বিয়ে ও দুই তালাকের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ২৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, কথিত পরকীয়া সম্পর্ক, দ্রুত বিয়ে ও বিচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর শিমলা গ্রামের বাসিন্দা ময়না বেগম (৪০) প্রায় ২৩ বছর আগে একই এলাকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে সন্তান-সন্ততিসহ একটি পরিবার গড়ে ওঠে এবং দীর্ঘদিন তারা একসঙ্গে বসবাস করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে পাবনা জেলার বাসিন্দা মো. আতিক মিয়ার সঙ্গে ময়না বেগমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন সম্পর্ক চলার পর চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে তিনি তার প্রথম স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেনকে তালাক দেন। এরপর ২ মে মো. আতিক মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
তবে দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ ও মতবিরোধ শুরু হয় বলে জানা গেছে। এর জেরে বিয়ের মাত্র ৯ দিনের মাথায় আতিক মিয়া ময়না বেগমকে তালাক দেন। এতে তাদের দ্বিতীয় সংসারের দ্রুত অবসান ঘটে।
ঘটনার নতুন মোড় আসে প্রায় ২৫ দিন পর। আতিক মিয়ার অভিযোগ, ব্যক্তিগত কাজে চর শিমলা এলাকায় গেলে তাকে জোরপূর্বক একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তার দাবি, আদালতের হলফনামার মাধ্যমে ৫ লাখ ৫ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে পুনরায় তাদের কাবিন সম্পন্ন করা হয়।
তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত সত্যতা এবং অভিযোগগুলোর বাস্তবতা প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ঘটনাটির সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন, তালাকের বিধান, ইদ্দতকাল পালন এবং বিয়ে নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় জড়িত। বিশেষ করে প্রথম তালাকের পর নির্ধারিত ইদ্দতকাল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গেলে এক সাংবাদিককে ফোনে হুমকি দেওয়া হয় এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্ত ময়না বেগমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে চর শিমলা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা দোষারোপ করা সমীচীন হবে না। তদন্তের মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে তারা মনে করছেন।



















