ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকিতে ক্লিনিকে সেবার নামে ঔষধের ব্যবসা, পরিমাণ বুঝে টাকা আদায়ের অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১১:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / ২৫ Time View
Print



‎মোঃ সজিব সরদার স্টাফ রিপোর্টার : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সাতানী কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ প্রদানের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার কাজী ফাবিয়া জাহানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা, নির্ধারিত সময়ের বাইরে অফিসে উপস্থিতি এবং ক্লিনিকের ভেতরে নিয়মবহির্ভূত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

‎একাধিক বার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী প্রায় প্রতিদিনই দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে ক্লিনিকে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয় রোগীদের অভিযোগ, ক্লিনিকে বিনামূল্যে প্রদানযোগ্য ঔষধের বিপরীতে নগদ টাকা নেওয়া হয়। ঔষধের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয় টাকার অঙ্ক। এছাড়া ওজন মাপা ও রক্তচাপ পরীক্ষা করতেও নেওয়া হয় আলাদা ফি।

‎অভিযোগ অনুযায়ী, ওজন মাপতে ১০ টাকা, প্রেসার মাপতে ১০ টাকা এবং নেবুলাইজার ব্যবহারে নেওয়া হয় ৫০ টাকা।

‎শুধু তাই নয়, কমিউনিটি ক্লিনিকের ভেতরেই রোগীদের স্যালাইন পুশ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ সেবার জন্য রোগীদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

‎ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রেনু নামে এক নারী বলেন, “আজ ২০ টাকা নিয়ে আসছি, ২০ টাকার
‎ঔষধ দিছে। টাকা না থাকায় প্রেসার মাপাইতে পারি নাই, প্রেসার মাপাইলে ১০ টাকা লাগে।

‎ফিরোজা নামে আরেক নারী বলেন, “আমার কাছে টাকা নাই, তাই প্রেসার মাপাইতে পারি নাই।

‎সুমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “টাকা দিয়াই
‎ঔষধ নিতে হয়। ঔষধ বেশি হলে টাকা বেশি লাগে। এক পাতা ক্যালশিয়াম, এক পাতা ভিটামিন, এক পাতা কাশির ওষুধ আর দুইটা খাবার স্যালাইন নিতে ৭০ টাকা দিছি।

‎অন্তঃসত্ত্বা নারী শিল্পী বলেন, “আগের মাসে আয়রন, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম আর স্যালাইন নিতে ১৫০ টাকা রাখছে। বাচ্চা হবে তাই এগুলো দিছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, “প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী আসে। প্রায় সবার কাছ থেকেই টাকা নেয়। ভেতরে বসে স্যালাইন দেয়, এর জন্য আবার ৩০০-৫০০ টাকা নেয়।

‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার কাজী ফাবিয়া জাহান কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

‎এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর শহিদুল হাসান শাহীন বলেন, “আমার কাছে এ ধরনের অভিযোগ আগে আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

‎তিনি আরও বলেন, “তার যদি কোনো নার্সিং কোর্স বা প্রয়োজনীয় ডিগ্রি থাকে, তাহলে ব্যক্তিগত চেম্বারে স্যালাইন দিতে পারে। তবে কমিউনিটি ক্লিনিকে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।


Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

দুমকিতে ক্লিনিকে সেবার নামে ঔষধের ব্যবসা, পরিমাণ বুঝে টাকা আদায়ের অভিযোগ

Update Time : ১১:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Print



‎মোঃ সজিব সরদার স্টাফ রিপোর্টার : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সাতানী কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ প্রদানের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার কাজী ফাবিয়া জাহানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা, নির্ধারিত সময়ের বাইরে অফিসে উপস্থিতি এবং ক্লিনিকের ভেতরে নিয়মবহির্ভূত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

‎একাধিক বার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী প্রায় প্রতিদিনই দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে ক্লিনিকে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎স্থানীয় রোগীদের অভিযোগ, ক্লিনিকে বিনামূল্যে প্রদানযোগ্য ঔষধের বিপরীতে নগদ টাকা নেওয়া হয়। ঔষধের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয় টাকার অঙ্ক। এছাড়া ওজন মাপা ও রক্তচাপ পরীক্ষা করতেও নেওয়া হয় আলাদা ফি।

‎অভিযোগ অনুযায়ী, ওজন মাপতে ১০ টাকা, প্রেসার মাপতে ১০ টাকা এবং নেবুলাইজার ব্যবহারে নেওয়া হয় ৫০ টাকা।

‎শুধু তাই নয়, কমিউনিটি ক্লিনিকের ভেতরেই রোগীদের স্যালাইন পুশ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ সেবার জন্য রোগীদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

‎ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রেনু নামে এক নারী বলেন, “আজ ২০ টাকা নিয়ে আসছি, ২০ টাকার
‎ঔষধ দিছে। টাকা না থাকায় প্রেসার মাপাইতে পারি নাই, প্রেসার মাপাইলে ১০ টাকা লাগে।

‎ফিরোজা নামে আরেক নারী বলেন, “আমার কাছে টাকা নাই, তাই প্রেসার মাপাইতে পারি নাই।

‎সুমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “টাকা দিয়াই
‎ঔষধ নিতে হয়। ঔষধ বেশি হলে টাকা বেশি লাগে। এক পাতা ক্যালশিয়াম, এক পাতা ভিটামিন, এক পাতা কাশির ওষুধ আর দুইটা খাবার স্যালাইন নিতে ৭০ টাকা দিছি।

‎অন্তঃসত্ত্বা নারী শিল্পী বলেন, “আগের মাসে আয়রন, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম আর স্যালাইন নিতে ১৫০ টাকা রাখছে। বাচ্চা হবে তাই এগুলো দিছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, “প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী আসে। প্রায় সবার কাছ থেকেই টাকা নেয়। ভেতরে বসে স্যালাইন দেয়, এর জন্য আবার ৩০০-৫০০ টাকা নেয়।

‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার কাজী ফাবিয়া জাহান কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

‎এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর শহিদুল হাসান শাহীন বলেন, “আমার কাছে এ ধরনের অভিযোগ আগে আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

‎তিনি আরও বলেন, “তার যদি কোনো নার্সিং কোর্স বা প্রয়োজনীয় ডিগ্রি থাকে, তাহলে ব্যক্তিগত চেম্বারে স্যালাইন দিতে পারে। তবে কমিউনিটি ক্লিনিকে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।