দিরাই-শাল্লায় মাদক ব্যবসার ভয়াবহ বিস্তার: প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ বনাম শক্তিশালী সিন্ডিকেট
- Update Time : ০৭:২৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / ২৭ Time View

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মাদক ব্যবসার দাপট। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযানের দাবি থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও ‘বাবা’ ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মরণঘাতী নেশাদ্রব্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিশাল কারবারের নেপথ্যে কাজ করছে একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী মহল।মোটরসাইকেলে ‘হোম ডেলিভারি’ ও অভিনব কৌশল
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক বিক্রির কৌশল হিসেবে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে মোটরসাইকেল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রতিটি গ্রামেই ৪-৫ জন করে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের সহায়তায় প্রতি গ্রামে ৩-৪টি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল সার্বক্ষণিক মাদক পরিবহনে নিয়োজিত থাকে। ফেরিওয়ালার মতো ছোট ছোট ‘পোটলা’ করে খুচরা বিক্রি ছাড়াও পাইকারি দরে মোটরসাইকেল যোগে এসব মাদক পৌঁছে যাচ্ছে পাড়া-মহল্লায়।পুলিশের গতিবিধি ফাঁস হওয়ার অভিযোগ
গ্রামগুলো থেকে থানার দূরত্ব বেশি হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, পুলিশ থানা থেকে বের হওয়ার আগেই মাদক ব্যবসায়ীরা খবর পেয়ে যায়। ফলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা গা-ঢাকা দিতে সক্ষম হয়। এই ‘ইনফর্মার’ বা তথ্য সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
প্রশাসনের বক্তব্য
মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার রোধে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে দিরাই ও শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়মিত অভিযান চলছে এবং মূল হোতাদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গাঁজা, মদ ও ইয়াবার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসীর মতে, কেবল ছিঁচকে বিক্রেতাদের ধরলে এই মহামারি বন্ধ হবে না। মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা গডফাদার বা ‘মূল হোতা’দের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলো শনাক্ত করে চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব।
দিরাই ও শাল্লার যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।




















