ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৈশোরের অবক্ষয় ও নৈতিক সংকট: দায় কার—পরিবার, সমাজ নাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের?

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / ২৭ Time View
Print

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলাদেশর চিত্র:
আমাদের সমাজের বর্তমান সামাজিক কাঠামো, নৈতিক মূল্যবোধ ও সুশাসন ব্যবস্থা এখন আর সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। চারপাশের শাসন ব্যবস্থা ও আদর্শিক দেয়াল যদি সত্যিই মজবুত ও কার্যকর হতো, তবে প্রতিদিন আমাদের সমাজ ও পরিবারে এত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতো না। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—সবাই সবকিছু দেখছে, অবক্ষয় চোখের সামনে প্রকাশ্য হচ্ছে, কিন্তু কেউ যেন কিছু বলছে না! কেউ হয়তো সামাজিক বা ব্যক্তিগত ঝামেলার ভয়ে চুপ থাকে, আবার কেউ “আমার কী!” বলে এড়িয়ে যায়।
আর এই নীরবতার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর। যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কিশোর-কিশোরীরা শিক্ষা ও নৈতিকতা অর্জন করতে যায়, সেখানে গিয়ে দেখা যাচ্ছে অল্প বয়সেই তারা পরিপক্বতাহীন সস্তা আবেগে গা ভাসিয়ে ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’ বনে যাচ্ছে! অষ্টম বা নবম শ্রেণীতে পড়তেই হরমোনাল পরিবর্তন আর ডিজিটাল ডিভাইসের অপব্যবহারের কারণে তারা যেন দুনিয়া জয় করে ফেলেছে—এমন একটা বেপরোয়া ভাবভঙ্গি প্রকাশ পাচ্ছে।
প্রশ্ন উঠেছে, কিশোর বয়সের এই নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে আসল দোষটা কার?
অনভিজ্ঞ ও আবেগী সেই ছেলে-মেয়েদের?যারা ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝার আগেই ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে?
সঠিক গাইডলাইন না দেওয়া পরিবারের?যারা সন্তানদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তির সব উপকরণ তুলে দিয়েও তাদের মানসিক পরিবর্তনের খোঁজ রাখতে পারছেন না?
উদাসীন সমাজের?যেখানে চোখের সামনে কিশোর-কিশোরীদের পথভ্রষ্ট হতে দেখলেও কেউ “পরের ঝামেলা” মনে করে শাসন বা সচেতন করার উদ্যোগ নেয় না?
নাকি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের? যাঁদের মূল দায়িত্ব ছিল শুধু সিলেবাস শেষ করা নয়, বরং নৈতিক শিক্ষার আলো ছড়ানো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা আজ শুধু জিপিএ-৫ এর প্রতিযোগিতার পেছনে ঢাকা পড়ে গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রীর প্রতি কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান:
এই সামাজিক মহামারি ও অপ্রীতিকর পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে আমূল পরিবর্তন এবং কঠোর আইনি কাঠামো বাস্তবায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যেন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বা বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কোনো ধরনের অনৈতিক, শৃঙ্খলা পরিপন্থী বা কিশোর অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নিয়ম জারি করতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মোবাইল ফোনের ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, নিয়মিত কাউন্সিলিং এবং নৈতিক শিক্ষার ক্লাস বাধ্যতামূলক করার জন্য মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো যাচ্ছে।প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শুধু সার্টিফিকেট দেওয়ার কারখানা না বানিয়ে নৈতিকতা চর্চার মূল কেন্দ্রে রূপান্তর করতে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
কোনো একক পক্ষকে দোষারোপ করে এই অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। দায় আমাদের সবার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আসুন, নীরবতা ভেঙে আমরা প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে সচেতন হই, সমাজকে বদলে দিতে এবং একটি সুস্থ নৈতিকতাসম্পন্ন প্রজন্ম গঠনে ভূমিকা রাখি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

কৈশোরের অবক্ষয় ও নৈতিক সংকট: দায় কার—পরিবার, সমাজ নাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের?

Update Time : ০২:৫০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
Print

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলাদেশর চিত্র:
আমাদের সমাজের বর্তমান সামাজিক কাঠামো, নৈতিক মূল্যবোধ ও সুশাসন ব্যবস্থা এখন আর সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। চারপাশের শাসন ব্যবস্থা ও আদর্শিক দেয়াল যদি সত্যিই মজবুত ও কার্যকর হতো, তবে প্রতিদিন আমাদের সমাজ ও পরিবারে এত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতো না। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—সবাই সবকিছু দেখছে, অবক্ষয় চোখের সামনে প্রকাশ্য হচ্ছে, কিন্তু কেউ যেন কিছু বলছে না! কেউ হয়তো সামাজিক বা ব্যক্তিগত ঝামেলার ভয়ে চুপ থাকে, আবার কেউ “আমার কী!” বলে এড়িয়ে যায়।
আর এই নীরবতার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর। যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কিশোর-কিশোরীরা শিক্ষা ও নৈতিকতা অর্জন করতে যায়, সেখানে গিয়ে দেখা যাচ্ছে অল্প বয়সেই তারা পরিপক্বতাহীন সস্তা আবেগে গা ভাসিয়ে ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’ বনে যাচ্ছে! অষ্টম বা নবম শ্রেণীতে পড়তেই হরমোনাল পরিবর্তন আর ডিজিটাল ডিভাইসের অপব্যবহারের কারণে তারা যেন দুনিয়া জয় করে ফেলেছে—এমন একটা বেপরোয়া ভাবভঙ্গি প্রকাশ পাচ্ছে।
প্রশ্ন উঠেছে, কিশোর বয়সের এই নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে আসল দোষটা কার?
অনভিজ্ঞ ও আবেগী সেই ছেলে-মেয়েদের?যারা ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝার আগেই ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে?
সঠিক গাইডলাইন না দেওয়া পরিবারের?যারা সন্তানদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তির সব উপকরণ তুলে দিয়েও তাদের মানসিক পরিবর্তনের খোঁজ রাখতে পারছেন না?
উদাসীন সমাজের?যেখানে চোখের সামনে কিশোর-কিশোরীদের পথভ্রষ্ট হতে দেখলেও কেউ “পরের ঝামেলা” মনে করে শাসন বা সচেতন করার উদ্যোগ নেয় না?
নাকি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের? যাঁদের মূল দায়িত্ব ছিল শুধু সিলেবাস শেষ করা নয়, বরং নৈতিক শিক্ষার আলো ছড়ানো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা আজ শুধু জিপিএ-৫ এর প্রতিযোগিতার পেছনে ঢাকা পড়ে গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রীর প্রতি কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান:
এই সামাজিক মহামারি ও অপ্রীতিকর পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে আমূল পরিবর্তন এবং কঠোর আইনি কাঠামো বাস্তবায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যেন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বা বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কোনো ধরনের অনৈতিক, শৃঙ্খলা পরিপন্থী বা কিশোর অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নিয়ম জারি করতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মোবাইল ফোনের ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, নিয়মিত কাউন্সিলিং এবং নৈতিক শিক্ষার ক্লাস বাধ্যতামূলক করার জন্য মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো যাচ্ছে।প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শুধু সার্টিফিকেট দেওয়ার কারখানা না বানিয়ে নৈতিকতা চর্চার মূল কেন্দ্রে রূপান্তর করতে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
কোনো একক পক্ষকে দোষারোপ করে এই অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। দায় আমাদের সবার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আসুন, নীরবতা ভেঙে আমরা প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে সচেতন হই, সমাজকে বদলে দিতে এবং একটি সুস্থ নৈতিকতাসম্পন্ন প্রজন্ম গঠনে ভূমিকা রাখি।