ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুফিয়া কামাল না থাকলে নারীশিক্ষায় বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে থাকত’: জবি উপাচার্য

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / ৩৫ Time View
Print

রাকিব মাহী,জবি প্রতিনিধি

নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে কবি সুফিয়া কামালের অবদান স্মরণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, তাঁর মতো দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব সে সময়ে কাজ না করলে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে থাকত।

রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সুফিয়া কামাল: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কবি সুফিয়া কামাল এবং কবি-গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালকে স্মরণে দুই দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুফিয়া কামালের জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি কেবল নিজে শিক্ষিত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং অন্যদের শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতেও নিরলসভাবে কাজ করেছেন। নারীশিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, সমাজের নানা ক্ষেত্রে এখনও নারীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে সম্পদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

সুফিয়া কামালের মানবতাবাদী দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, তিনি শুধু নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন না; মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও প্রগতিশীল চিন্তার এক উজ্জ্বল প্রতীক ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুবুল হক। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির গবেষক মাহবুবা রহমান।

প্রথম দিনে ‘সুফিয়া কামালের কবিতা: বিষয় ও অনুভবের বৈচিত্র্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাত আরা সোহেলী। এছাড়া ‘বিপন্ন প্রকৃতির বিষণ্ন নারী: সুফিয়া কামালের কবিতায় পরিবেশ-নারীবাদী অনুষঙ্গ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানজীদা মাসুদ।

উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ড. গিয়াস শামীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আসাদুল্লাহিল গালিব।

সেমিনারে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে কবি ও গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও অবদান নিয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সুফিয়া কামাল না থাকলে নারীশিক্ষায় বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে থাকত’: জবি উপাচার্য

Update Time : ০৪:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
Print

রাকিব মাহী,জবি প্রতিনিধি

নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে কবি সুফিয়া কামালের অবদান স্মরণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, তাঁর মতো দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব সে সময়ে কাজ না করলে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে থাকত।

রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সুফিয়া কামাল: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কবি সুফিয়া কামাল এবং কবি-গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালকে স্মরণে দুই দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুফিয়া কামালের জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি কেবল নিজে শিক্ষিত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং অন্যদের শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতেও নিরলসভাবে কাজ করেছেন। নারীশিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, সমাজের নানা ক্ষেত্রে এখনও নারীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে সম্পদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

সুফিয়া কামালের মানবতাবাদী দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, তিনি শুধু নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন না; মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও প্রগতিশীল চিন্তার এক উজ্জ্বল প্রতীক ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুবুল হক। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির গবেষক মাহবুবা রহমান।

প্রথম দিনে ‘সুফিয়া কামালের কবিতা: বিষয় ও অনুভবের বৈচিত্র্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাত আরা সোহেলী। এছাড়া ‘বিপন্ন প্রকৃতির বিষণ্ন নারী: সুফিয়া কামালের কবিতায় পরিবেশ-নারীবাদী অনুষঙ্গ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানজীদা মাসুদ।

উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ড. গিয়াস শামীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আসাদুল্লাহিল গালিব।

সেমিনারে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে কবি ও গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও অবদান নিয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।