ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে টিসিবির ৪৩৩৫ কেজি চাল গায়েব

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • / ৩৮ Time View
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর বাজারের টিসিবি ডিলার বাবলুল করিমকে সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ চাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ৩০ জানুয়ারি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে ৮১১৪৫৮ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে ডিলার বাবলুল করিমকে ৬ হাজার ৭২৫ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ তার অধীনে থাকা ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে ৫ কেজি হারে প্রাপ্য চালের পরিমাণ ছিল মাত্র দুই হাজার ৩৯০ কেজি। সে হিসেবে ওই ডিওতে অতিরিক্ত দেওয়া হয় ৪ হাজার ৩৩৫ কেজি চাল।স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি এই অতিরিক্ত চাল কোথায় গেল এবং কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হলো। তাদের আরও প্রশ্ন-খাদ্য, বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও হিসাব-নিকাশের মধ্যেও যদি অতিরিক্ত এই পরিমাণ চাল বরাদ্দ হয়ে থাকে, তাহলে কি এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আত্মসাতের উদ্দেশ্য ছিল? বিষয়টি ঘিরে এখন জনমনে নানা সন্দেহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরবর্তী মাস অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ৮৪৪৬৪৬৪ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে একই ডিলারকে পুনরায় ৪৭৮টি কার্ডের অনুকূলে পুনরায় ২ হাজার ৩৯০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন কৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক টিসিবি ডিলার বাবলুল করিম।আজগার আলী, জহুর আলম ও আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ডিলার বাবলুল করিমের মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকতে পারে।পরানপুর এলাকার মনির হোসেন নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে এত বেশি চাল কীভাবে বরাদ্দ হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।শফিকুল নামের আরেকজন জানান, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল যদি এভাবে গায়েব হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।এ বিষয়ে ডিলার বাবুল করিমের কাছে সংবাদকর্মী পরিচয়ে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দের ডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারের চাল, সরকার ডিও দিয়েছে, সরকারের লোকের দেওয়া হয়েছে। আপনি কি ফুড অফিসার? আপনার জানার দরকার কী? এসব বাদ দেন।’ এ কথা বলার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।এ বিষয়ে নকিপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা আহমেদ জামান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শ্যামনগরে টিসিবির ৪৩৩৫ কেজি চাল গায়েব

Update Time : ০৮:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর বাজারের টিসিবি ডিলার বাবলুল করিমকে সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ চাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ৩০ জানুয়ারি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে ৮১১৪৫৮ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে ডিলার বাবলুল করিমকে ৬ হাজার ৭২৫ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ তার অধীনে থাকা ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে ৫ কেজি হারে প্রাপ্য চালের পরিমাণ ছিল মাত্র দুই হাজার ৩৯০ কেজি। সে হিসেবে ওই ডিওতে অতিরিক্ত দেওয়া হয় ৪ হাজার ৩৩৫ কেজি চাল।স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি এই অতিরিক্ত চাল কোথায় গেল এবং কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হলো। তাদের আরও প্রশ্ন-খাদ্য, বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও হিসাব-নিকাশের মধ্যেও যদি অতিরিক্ত এই পরিমাণ চাল বরাদ্দ হয়ে থাকে, তাহলে কি এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আত্মসাতের উদ্দেশ্য ছিল? বিষয়টি ঘিরে এখন জনমনে নানা সন্দেহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরবর্তী মাস অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ৮৪৪৬৪৬৪ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে একই ডিলারকে পুনরায় ৪৭৮টি কার্ডের অনুকূলে পুনরায় ২ হাজার ৩৯০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন কৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক টিসিবি ডিলার বাবলুল করিম।আজগার আলী, জহুর আলম ও আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ডিলার বাবলুল করিমের মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকতে পারে।পরানপুর এলাকার মনির হোসেন নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে এত বেশি চাল কীভাবে বরাদ্দ হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।শফিকুল নামের আরেকজন জানান, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল যদি এভাবে গায়েব হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।এ বিষয়ে ডিলার বাবুল করিমের কাছে সংবাদকর্মী পরিচয়ে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দের ডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারের চাল, সরকার ডিও দিয়েছে, সরকারের লোকের দেওয়া হয়েছে। আপনি কি ফুড অফিসার? আপনার জানার দরকার কী? এসব বাদ দেন।’ এ কথা বলার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।এ বিষয়ে নকিপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা আহমেদ জামান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।