👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবকের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১১:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৪ Time View
Print

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম):শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণিল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিপুলসংখ্যক অভিভাবকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কমান্ডার মোহাম্মদ শফি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জানে আলমের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষিকা আইরিন দিলরুবা, শিক্ষক দেবুপ্রাসাদ বড়ুয়া, কমল বড়ুয়া ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। এ ছাড়া অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও কয়েকজন প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।

সমাবেশের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে শিক্ষক-অভিভাবকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় পর্ব। এতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক ও অভিভাবকদের দায়িত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় শিক্ষকরা বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখা এবং নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও যত্নশীল হতে হবে।

অন্যদিকে অভিভাবক প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান সময়ের পরিবর্তিত শিক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে সব অভিভাবক সমানভাবে পরিচিত নন। তাই পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে শ্রেণিকক্ষে বিশেষ যত্ন নেওয়া, তাদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা এবং দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময় শেষে শিক্ষক ও অভিভাবকরা একমত পোষণ করেন, শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—এই তিন পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মিলিত দায়িত্বশীলতাই পারে একটি সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমান্ডার মোহাম্মদ শফি বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মূল কারিগর। তাদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, সৎ, নৈতিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে দৃঢ় সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে কোনো শিক্ষার্থীই ঝরে পড়বে না এবং শিক্ষার গুণগত মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং শতাধিক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ এবং পাঠদানের মানোন্নয়নে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত তুলে ধরেন।

পরে অভিভাবকদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবকের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ

Update Time : ১১:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Print

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম):শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণিল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিপুলসংখ্যক অভিভাবকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কমান্ডার মোহাম্মদ শফি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জানে আলমের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষিকা আইরিন দিলরুবা, শিক্ষক দেবুপ্রাসাদ বড়ুয়া, কমল বড়ুয়া ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। এ ছাড়া অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও কয়েকজন প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।

সমাবেশের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে শিক্ষক-অভিভাবকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় পর্ব। এতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক ও অভিভাবকদের দায়িত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় শিক্ষকরা বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখা এবং নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও যত্নশীল হতে হবে।

অন্যদিকে অভিভাবক প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান সময়ের পরিবর্তিত শিক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে সব অভিভাবক সমানভাবে পরিচিত নন। তাই পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে শ্রেণিকক্ষে বিশেষ যত্ন নেওয়া, তাদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা এবং দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময় শেষে শিক্ষক ও অভিভাবকরা একমত পোষণ করেন, শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—এই তিন পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মিলিত দায়িত্বশীলতাই পারে একটি সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমান্ডার মোহাম্মদ শফি বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মূল কারিগর। তাদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, সৎ, নৈতিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে দৃঢ় সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে কোনো শিক্ষার্থীই ঝরে পড়বে না এবং শিক্ষার গুণগত মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং শতাধিক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ এবং পাঠদানের মানোন্নয়নে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত তুলে ধরেন।

পরে অভিভাবকদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।