পরশুরামে চামড়ার কান্না: দুই দিনেও বিক্রি না হওয়ায় শত শত চামড়া নদীতে, মাটির নিচে গোপনে দাফন
- Update Time : ১০:১২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
- / ৮ Time View

মোহাম্মদ হানিফ,স্টাফ রিপোর্টার ফেনী:
পানির দরে দাম, তবুও ক্রেতা নেই — ভয় আর ক্ষোভে রাতের আঁধারে নদীতে ফেলা হচ্ছে কোরবানির চামড়া
পরশুরাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, দুই দিন পার হলেও চামড়া বিক্রি না হওয়ায় শত শত চামড়া গোপনে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন নদী ও খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এ বছর চামড়ার বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। পানির দরে নামমাত্র মূল্যে চামড়া বিক্রির প্রস্তাব এলেও অধিকাংশ এলাকায় কোনো ক্রেতাই পাওয়া যায়নি। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাঠে চামড়া ফেলে রেখে যান। পরে সেগুলোও বিক্রি না হওয়ায় রাতের আঁধারে গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ক্ষোভে এক ব্যবসায়ী নদীতে চামড়া ফেলে দিলে তৎকালীন বিতর্কিত ইউএনও আরিফুর রহমান তার বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করেছিলেন। সেই ঘটনার পর এবার প্রকাশ্যে কেউ চামড়া ফেলতে সাহস না পেলেও গোপনে একাধিক স্থানে নদীতে ও মাটির নিচে চামড়া পুঁতে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চামড়া শিল্প ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের কোনো কার্যকর তদারকি কিংবা নজরদারি নেই। এতে প্রতিবছরই কোরবানির মৌসুমে চামড়া নিয়ে ভয়াবহ সংকট তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— কোটি টাকার চামড়া শিল্প কি তবে ধ্বংসের পথে? আর কতদিন অব্যবস্থাপনার শিকার হবে এতিমখানা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা?
[ছবিটি প্রতীকী]



















