ঢাকায় ইয়াবা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে যশোর পাড়ি: মাদক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
- Update Time : ০৮:১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / ৩০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী থেকে যশোরে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেওয়ার পথে সংঘবদ্ধ একটি মাদক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
ডিএনসি জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার রোধে চলমান গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে গত ৯ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের পরিচিত মাদক কারবারি মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও নজরদারির মাধ্যমে তার সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি জানতে পারে, যশোরভিত্তিক একটি চক্র ঢাকায় ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে করে যশোরে নিয়ে যাবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গত ৬ জুলাই রাতে রাজধানীর শ্যামপুর থানার ধোলাইপাড় এলাকায় ঢাকা-যশোর মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় চারজনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), মো. জহিরুল হক তুহিন (৩২) এবং মোছা. জলি বেগম (২০)।
ডিএনসির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা ঢাকায় মাদক সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চক্রটি বড় যানবাহনের পরিবর্তে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে দ্রুত ও গোপনে মাদক পরিবহন করছিল। এছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় তারা একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ঢাকা মহানগর পুলিশের শ্যামপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসি জানিয়েছে, চক্রটির অর্থদাতা, সরবরাহকারী এবং অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত ও গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















