ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের গর্বিত মেয়ে দেবযানী ঘোষ, যার হাতে ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব Hydrogen বিমান প্রযুক্তি

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৯ Time View
Print

শ্রী সুপণ বিশ্বাস- (স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম।) অপার সম্ভাবনার দেশ এই সোনার বাংলা। প্রকৃত মেধার যথার্থ মূল্যায়ণ যদি এই দেশে হত,এই দেশ হতো বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উন্নত দেশ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই দেশে কখনো সত্যিকার মেধাবীর প্রকৃত মূল্যায়ণ হয়না। চতুর্দিকে অপজ্ঞান-ধ্যান ও চিন্তাধারায় পরিপূর্ণ মানুষের ছড়াছড়ি। নেই গবেষণা, নেই সত্যের চর্চা, নেই মেধার পরিস্ফুটনের উৎকৃষ্ট কোন উদ্যোগ। অথচ এই সোনার দেশে রয়েছে শত শত মেধাবী। পূণ্যভূমি বীর প্রসবিনী চট্টলার মাটিতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা শ্রীমানী দেবযানী ঘোষ’র। আজ আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গন জার্মানির অত্যাধুনিক বিমান প্রযুক্তি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এক কৃতি প্রকৌশলী। ইংরেজী ১৯৮৮ সালে জন্ম নেওয়া দেবযানীর শিক্ষাজীবনের শুরু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী অপর্ণাচরণ উচ্চবিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরে ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক মহান কিংবদন্তী বিপ্লবী পরম শ্রদ্ধেয়রমাস্টারদা সূর্য সেন’র পবিত্র জন্মধন্য বিপ্লবতীর্থ রাউজানের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশ CUET(চুয়েট)’র তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা করেন।চুয়েটের গণ্ডি পেরিয়ে তার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয় জার্মানিতে।RWTH আচেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি ইনফিনিয়ন টেকনোলজিসে ইন্টার্নশিপ করেন। বিদ্যুৎ,শক্তি রূপান্তর ও পাওয়ার ইলেক্ট্রনিক্সের ওপর তার আগ্রহ ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে যায় বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির অনিন্দ্য সুন্দর গবেষণায় জার্মানির উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হিসেবে শ্রীমানী দেবযানী যুক্ত হন ঐতিহাসিক HY4 প্রকল্পে। চার আসনের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল চালিত বিমানটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, পাওয়ার ইলেক্ট্রনিক্স ও শক্তি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি নিয়ে তার গবেষণা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে HY4 সফলভাবে আকাশে ওড়ে। বর্তমানে শ্রীমানী দেবযানী H2FLY’র সঙ্গে হাইড্রোজেন বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছেন। তার গবেষণার মূল লক্ষ্য বিশ্বস্রষ্টার মহত্তম সৃষ্টি পরিবেশবান্ধব ও কম নিঃসরণ ভবিষ্যৎ বিমান চলাচলের প্রযুক্তিকে আরও উত্তম রূপে কার্যকর করে তোলা।
বীর চট্টলার গর্বিত কন্যা শ্রীমানী দেবযানী ঘোষ চট্টগ্রামের একটি বিদ্যাপীঠের শ্রেণিকক্ষ থেকে আজ আন্তর্জাতিক বিমান গবেষণার অঙ্গনে। প্রিয় দেবযানী ঘোষের এই মহৎ যাত্রা নিঃসন্দেহে গৌরবের, গর্বের ও অহংকারের। দেবযানী মা তার আপন কর্মগুণে আজ বহু বহু নারীর আদর্শ ও অনুপ্রেরণা। আমি অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ড অধিপতির রাতুল চরণে দেবযানী মায়ের উত্তরোত্তর উৎকর্ষ ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। জগৎ কল্যাণে তুমি এগিয়ে যাও দূরে বহুদূরে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

চট্টগ্রামের গর্বিত মেয়ে দেবযানী ঘোষ, যার হাতে ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব Hydrogen বিমান প্রযুক্তি

Update Time : ০৯:১৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
Print

শ্রী সুপণ বিশ্বাস- (স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম।) অপার সম্ভাবনার দেশ এই সোনার বাংলা। প্রকৃত মেধার যথার্থ মূল্যায়ণ যদি এই দেশে হত,এই দেশ হতো বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উন্নত দেশ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই দেশে কখনো সত্যিকার মেধাবীর প্রকৃত মূল্যায়ণ হয়না। চতুর্দিকে অপজ্ঞান-ধ্যান ও চিন্তাধারায় পরিপূর্ণ মানুষের ছড়াছড়ি। নেই গবেষণা, নেই সত্যের চর্চা, নেই মেধার পরিস্ফুটনের উৎকৃষ্ট কোন উদ্যোগ। অথচ এই সোনার দেশে রয়েছে শত শত মেধাবী। পূণ্যভূমি বীর প্রসবিনী চট্টলার মাটিতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা শ্রীমানী দেবযানী ঘোষ’র। আজ আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গন জার্মানির অত্যাধুনিক বিমান প্রযুক্তি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এক কৃতি প্রকৌশলী। ইংরেজী ১৯৮৮ সালে জন্ম নেওয়া দেবযানীর শিক্ষাজীবনের শুরু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী অপর্ণাচরণ উচ্চবিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরে ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক মহান কিংবদন্তী বিপ্লবী পরম শ্রদ্ধেয়রমাস্টারদা সূর্য সেন’র পবিত্র জন্মধন্য বিপ্লবতীর্থ রাউজানের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশ CUET(চুয়েট)’র তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা করেন।চুয়েটের গণ্ডি পেরিয়ে তার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয় জার্মানিতে।RWTH আচেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি ইনফিনিয়ন টেকনোলজিসে ইন্টার্নশিপ করেন। বিদ্যুৎ,শক্তি রূপান্তর ও পাওয়ার ইলেক্ট্রনিক্সের ওপর তার আগ্রহ ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে যায় বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির অনিন্দ্য সুন্দর গবেষণায় জার্মানির উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হিসেবে শ্রীমানী দেবযানী যুক্ত হন ঐতিহাসিক HY4 প্রকল্পে। চার আসনের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল চালিত বিমানটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, পাওয়ার ইলেক্ট্রনিক্স ও শক্তি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি নিয়ে তার গবেষণা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে HY4 সফলভাবে আকাশে ওড়ে। বর্তমানে শ্রীমানী দেবযানী H2FLY’র সঙ্গে হাইড্রোজেন বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছেন। তার গবেষণার মূল লক্ষ্য বিশ্বস্রষ্টার মহত্তম সৃষ্টি পরিবেশবান্ধব ও কম নিঃসরণ ভবিষ্যৎ বিমান চলাচলের প্রযুক্তিকে আরও উত্তম রূপে কার্যকর করে তোলা।
বীর চট্টলার গর্বিত কন্যা শ্রীমানী দেবযানী ঘোষ চট্টগ্রামের একটি বিদ্যাপীঠের শ্রেণিকক্ষ থেকে আজ আন্তর্জাতিক বিমান গবেষণার অঙ্গনে। প্রিয় দেবযানী ঘোষের এই মহৎ যাত্রা নিঃসন্দেহে গৌরবের, গর্বের ও অহংকারের। দেবযানী মা তার আপন কর্মগুণে আজ বহু বহু নারীর আদর্শ ও অনুপ্রেরণা। আমি অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ড অধিপতির রাতুল চরণে দেবযানী মায়ের উত্তরোত্তর উৎকর্ষ ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। জগৎ কল্যাণে তুমি এগিয়ে যাও দূরে বহুদূরে।