👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০১:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৭ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:ঢাকা,৭ নভেম্বর:যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।
১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আধিপত্যবাদ, একনায়কতন্ত্র ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। সেদিনই দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব তার হাতে অর্পণ করা হয়।

এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে। দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। সরকার আজ সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ৭ নভেম্বরকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হলে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

ঢাকায় নানা কর্মসূচি:
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আজ সকালে রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত কুচকাওয়াজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এছাড়া নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উন্মুক্ত কনসার্টসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সরকারি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী। বিটিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা-উপজেলায়ও পালন:
ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের উদ্যোগে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় দিনব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট:
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশে একের পর এক রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা দেখা দেয়। ৩ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি হন। এরপর ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ৭ নভেম্বর সিপাহি ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এই ঘটনাই ইতিহাসে সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে পরিচিত।

ইতিহাসবিদদের মতে, এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এদিনের মধ্য দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন যাত্রা শুরু হয় বলে বিএনপি মনে করে।
দিবসটির ৫১তম বার্ষিকীতে সারাদেশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

Update Time : ০১:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:ঢাকা,৭ নভেম্বর:যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।
১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আধিপত্যবাদ, একনায়কতন্ত্র ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। সেদিনই দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব তার হাতে অর্পণ করা হয়।

এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে। দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। সরকার আজ সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ৭ নভেম্বরকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হলে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

ঢাকায় নানা কর্মসূচি:
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আজ সকালে রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত কুচকাওয়াজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এছাড়া নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উন্মুক্ত কনসার্টসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সরকারি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী। বিটিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা-উপজেলায়ও পালন:
ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের উদ্যোগে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় দিনব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট:
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশে একের পর এক রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা দেখা দেয়। ৩ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি হন। এরপর ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ৭ নভেম্বর সিপাহি ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এই ঘটনাই ইতিহাসে সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে পরিচিত।

ইতিহাসবিদদের মতে, এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এদিনের মধ্য দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন যাত্রা শুরু হয় বলে বিএনপি মনে করে।
দিবসটির ৫১তম বার্ষিকীতে সারাদেশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।