হাওরবাসীর আহাজারি: নির্বাচনের সময় নেতাদের অভাব নেই, বিপদের সময় কেউ নেই
- Update Time : ০৮:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ৬০ Time View

তৌফিকুর রহমান তাহের,বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা চৈত্রমাসের অকাল বন্যায় চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে সোনালি স্বপ্ন। সুনামগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকার দিরাই-শাল্লার হাওরজুড়ে এখন শুধু কৃষকের হাহাকার। যে কাঁচা ধান গোলায় তোলার স্বপ্নে দিনরাত পরিশ্রম করেছিলেন কৃষক, সেই ধান এখন পানির নিচে। অথচ এই চরম বিপাকে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
নেতারা এখন কোথায়? স্থানীয় কৃষকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— নির্বাচনের আগে যারা উন্নয়নের ফুলঝুরি নিয়ে দ্বারে দ্বারে আসতেন, আজ এই দুর্দিনে তারা কোথায়? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে যারা বাগাড়ম্বর করতেন, হাওরের পানির সাথে মানুষের জীবন যখন বিপন্ন, তখন তাদের টিকিটিও দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ বলছেন, নেতারা কি শুধু ভোটের কাঙাল? আমাদের বুকফাটা আর্তনাদ শোনার মতো কি কেউ নেই?”
*জনগণের ক্ষোভ, “আমাদের খেলার পুতুল ভাববেন না” দিরাই-শাল্লার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভের সাথে বলছেন, রাজপথের গরম বক্তৃতা আর ফেক ভিডিও দিয়ে মানুষের পেট ভরে না। ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় এখন ঘরের খোরাকি জোগানোই দায়। স্থানীয়রা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সামনেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আবার তো আমাদের কাছেই আসতে হবে। আমাদের কি খেলার পুতুল পেয়েছেন?”* কৃষকদের দাবি, ভোট এলে নেতারা পায়ে ধরেন, আর ধান তলিয়ে গেলে তারা ড্রয়িং রুমে বসে তামাশা দেখেন। এবার আর মিথ্যা সান্ত্বনায় কাজ হবে না।
হাওরবাসীর এই কান্না দেখার কি কেউ নেই? দিরাই-শাল্লার মানুষ আজ বড় অসহায়। একদিকে প্রকৃতি আর অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে বাংলার কৃষক। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই অবহেলার জবাব ব্যালটে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

















