👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় সাদা সোনা ও পানি ফলের জোয়ার-একই জলে দুই ফসল

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৫:০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৩ Time View
Print

জি এম আব্বাস উদ্দিন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:-এক সময় শুধু ধান আর পাটের জন্য পরিচিত ছিল সাতক্ষীরা। এখন এই জেলার পরিচয় পাল্টে দিয়েছে দুটি জলজ ফসল – বাগদা-গলদা চিংড়ি আর পানি ফল। বিশেষ করে দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় এই দুই ফসলের সমন্বিত চাষে ভাগ্য বদলেছে হাজারো কৃষকের।

১.চিংড়ি – সাতক্ষীরার সাদা সোনা,সাতক্ষীরাকে বলা হয় দেশের চিংড়ি রাজধানী। জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি ঘের রয়েছে।

বাগদা: লোনা পানিতে চাষ হয়, রপ্তানি হয়ই উরোপ-আমেরিকায়।গলদা: মিষ্টি পানিতে চাষ হয়, দেবহাটা ও কলারোয়ায় বেশি হয়।

ঘের মালিক আব্দুল গফফার বলেন,এক বিঘা ঘেরে চিংড়িতে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে। আগে আমরা ধান করতাম, এখন চিংড়িতে ১০ গুণ লাভ।

বর্তমানে সাতক্ষীরার চিংড়ি ৩০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেবহাটার পারুলিয়া, টাউন শ্রীপুর, গাজিরহাট এলাকার অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি এই চিংড়ি।

২.পানি ফল – নতুন সম্ভাবনা:
গত ৫ বছরে সাতক্ষীরায় পানি ফল (Water Chestnut / শিংড়া) চাষ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। এটি এমন একটি ফল যা পানির উপরে ভাসে।

চাষ পদ্ধতি:-এপ্রিল-মে মাসে পুকুর,বিল বা চিংড়ি ঘেরের পাশের অগভীর জলে লতা রোপণ করা হয়। কোনো সার বা কীটনাশক লাগে না। ৩-৪ মাস পর আগস্ট-অক্টোবরে ফল তোলা হয়। লাভ:-এক বিঘা জমির পানি থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকার পানি ফল পাওয়া যায়। খরচ মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা। চাহিদা:- রোজায় এই ফলের চাহিদা আকাশছোঁয়া। ঢাকা, চট্টগ্রামে ১ কেজি ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

কালীগঞ্জের পানি ফল চাষি রহিমা বেগম বলেন,আমার স্বামীর চিংড়ি ঘেরের পাশের ডোবায় পানি ফল লাগিয়েছি। ঘেরের পানিতেই হয়ে যায়, বাড়তি জমি লাগে না। সংসারে ভালো আয় হচ্ছে।

সমন্বিত চাষে ডাবল লাভ:
কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এখন কৃষকরা একই ঘেরে চিংড়ির সাথে পানি ফল চাষ করছে। চিংড়ির ময়লা পানি ফলের সার হিসাবে কাজ করে, আবার পানি ফলের পাতা পানিকে ঠান্ডা রাখে যা চিংড়ির জন্য ভালো।

দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,এটি একটি পরিবেশবান্ধব মডেল। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি যাতে তারা চিংড়ি ও পানি ফল একসাথে চাষ করে বেশি লাভবান হতে পারে।

সাতক্ষীরার এই জল-অর্থনীতি এখন দেশের জন্য একটি মডেল হয়ে উঠেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

সাতক্ষীরায় সাদা সোনা ও পানি ফলের জোয়ার-একই জলে দুই ফসল

Update Time : ০৫:০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Print

জি এম আব্বাস উদ্দিন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:-এক সময় শুধু ধান আর পাটের জন্য পরিচিত ছিল সাতক্ষীরা। এখন এই জেলার পরিচয় পাল্টে দিয়েছে দুটি জলজ ফসল – বাগদা-গলদা চিংড়ি আর পানি ফল। বিশেষ করে দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় এই দুই ফসলের সমন্বিত চাষে ভাগ্য বদলেছে হাজারো কৃষকের।

১.চিংড়ি – সাতক্ষীরার সাদা সোনা,সাতক্ষীরাকে বলা হয় দেশের চিংড়ি রাজধানী। জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি ঘের রয়েছে।

বাগদা: লোনা পানিতে চাষ হয়, রপ্তানি হয়ই উরোপ-আমেরিকায়।গলদা: মিষ্টি পানিতে চাষ হয়, দেবহাটা ও কলারোয়ায় বেশি হয়।

ঘের মালিক আব্দুল গফফার বলেন,এক বিঘা ঘেরে চিংড়িতে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে। আগে আমরা ধান করতাম, এখন চিংড়িতে ১০ গুণ লাভ।

বর্তমানে সাতক্ষীরার চিংড়ি ৩০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেবহাটার পারুলিয়া, টাউন শ্রীপুর, গাজিরহাট এলাকার অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি এই চিংড়ি।

২.পানি ফল – নতুন সম্ভাবনা:
গত ৫ বছরে সাতক্ষীরায় পানি ফল (Water Chestnut / শিংড়া) চাষ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। এটি এমন একটি ফল যা পানির উপরে ভাসে।

চাষ পদ্ধতি:-এপ্রিল-মে মাসে পুকুর,বিল বা চিংড়ি ঘেরের পাশের অগভীর জলে লতা রোপণ করা হয়। কোনো সার বা কীটনাশক লাগে না। ৩-৪ মাস পর আগস্ট-অক্টোবরে ফল তোলা হয়। লাভ:-এক বিঘা জমির পানি থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকার পানি ফল পাওয়া যায়। খরচ মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা। চাহিদা:- রোজায় এই ফলের চাহিদা আকাশছোঁয়া। ঢাকা, চট্টগ্রামে ১ কেজি ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

কালীগঞ্জের পানি ফল চাষি রহিমা বেগম বলেন,আমার স্বামীর চিংড়ি ঘেরের পাশের ডোবায় পানি ফল লাগিয়েছি। ঘেরের পানিতেই হয়ে যায়, বাড়তি জমি লাগে না। সংসারে ভালো আয় হচ্ছে।

সমন্বিত চাষে ডাবল লাভ:
কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এখন কৃষকরা একই ঘেরে চিংড়ির সাথে পানি ফল চাষ করছে। চিংড়ির ময়লা পানি ফলের সার হিসাবে কাজ করে, আবার পানি ফলের পাতা পানিকে ঠান্ডা রাখে যা চিংড়ির জন্য ভালো।

দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,এটি একটি পরিবেশবান্ধব মডেল। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি যাতে তারা চিংড়ি ও পানি ফল একসাথে চাষ করে বেশি লাভবান হতে পারে।

সাতক্ষীরার এই জল-অর্থনীতি এখন দেশের জন্য একটি মডেল হয়ে উঠেছে।