ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাল্টা চাষে বাজিমাত বকুলের, ৫ লাখে খরচে আয় ৩০ লাখ টাকা

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২১ Time View
Print

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:
শখের বসে শুরু করেছিলেন মাল্টা চাষ। সেই শখই এখন পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক উদ্যোগে। মাত্র ৩ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করে সাফল্য পাওয়ার পর আরও ৯ বিঘা জমিতে বাগান করেছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা বকুল হোসেন। গত ছয় বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে তিনি মাল্টা বিক্রি করেছেন প্রায় ৩০ লাখ টাকার।

বকুল হোসেনের সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবকও মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কেউ নতুন করে বাগান করেছেন, আবার কেউ বাড়ির আঙিনা ও ছাদে শুরু করেছেন মাল্টা চাষ।

সরেজমিনে বকুল হোসেনের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ মাল্টা। প্রতিটি গাছেই রয়েছে প্রচুর ফল। ফলন দেখে বেশ খুশি এই কৃষি উদ্যোক্তা।

বকুল হোসেন জানান, ২০২০ সালে দর্শনার মদনা এলাকা থেকে বারি-১ জাতের মাল্টার চারা সংগ্রহ করে তিন বিঘা জমিতে রোপণ করেন তিনি। শুরুতে মাল্টা চাষ নিয়ে তেমন ধারণা ছিল না। আলাদা করে খুব বেশি পরিচর্যা ও সার প্রয়োগও করতেন না। দুই বছর পর গাছে ফল আসতে শুরু করলে তিনি মাল্টা চাষে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে তার বাগানের ২৭০টি গাছে মাল্টা ধরেছে। একেকটি গাছে প্রায় এক মণ বা তারও বেশি মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি মাল্টার ওজন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। ইতোমধ্যে বাগান থেকে মাল্টা বিক্রি শুরু হয়েছে। পাইকাররা প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে মাল্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ মৌসুমে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

বকুল হোসেন আরও জানান, মাল্টা গাছের খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও পাতা কুঁকড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তিনি বলেন, গত ছয় বছরে তিন বিঘা মাল্টা বাগানে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে নিজেই মাল্টার চারা উৎপাদন করছেন। এ বছর প্রায় ১ হাজার মাল্টার চারা তৈরি করেছেন। এসব চারা ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিটি কলমের চারা ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

বকুল হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করতে চান। পাশাপাশি উৎপাদিত চারা ও কলম বিক্রির মাধ্যমেও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক ও বেকার যুবক মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান—বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের মাটিতে মাল্টা চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করে অনেক কৃষকই সাফল্য পেয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পুষ্টিগুণ ও স্বাদ ভালো হওয়ায় বাজারে দেশীয় মাল্টার চাহিদাও বেশ ভালো।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

মাল্টা চাষে বাজিমাত বকুলের, ৫ লাখে খরচে আয় ৩০ লাখ টাকা

Update Time : ০৯:০৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:
শখের বসে শুরু করেছিলেন মাল্টা চাষ। সেই শখই এখন পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক উদ্যোগে। মাত্র ৩ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করে সাফল্য পাওয়ার পর আরও ৯ বিঘা জমিতে বাগান করেছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা বকুল হোসেন। গত ছয় বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে তিনি মাল্টা বিক্রি করেছেন প্রায় ৩০ লাখ টাকার।

বকুল হোসেনের সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবকও মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কেউ নতুন করে বাগান করেছেন, আবার কেউ বাড়ির আঙিনা ও ছাদে শুরু করেছেন মাল্টা চাষ।

সরেজমিনে বকুল হোসেনের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ মাল্টা। প্রতিটি গাছেই রয়েছে প্রচুর ফল। ফলন দেখে বেশ খুশি এই কৃষি উদ্যোক্তা।

বকুল হোসেন জানান, ২০২০ সালে দর্শনার মদনা এলাকা থেকে বারি-১ জাতের মাল্টার চারা সংগ্রহ করে তিন বিঘা জমিতে রোপণ করেন তিনি। শুরুতে মাল্টা চাষ নিয়ে তেমন ধারণা ছিল না। আলাদা করে খুব বেশি পরিচর্যা ও সার প্রয়োগও করতেন না। দুই বছর পর গাছে ফল আসতে শুরু করলে তিনি মাল্টা চাষে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে তার বাগানের ২৭০টি গাছে মাল্টা ধরেছে। একেকটি গাছে প্রায় এক মণ বা তারও বেশি মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি মাল্টার ওজন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। ইতোমধ্যে বাগান থেকে মাল্টা বিক্রি শুরু হয়েছে। পাইকাররা প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে মাল্টা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ মৌসুমে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

বকুল হোসেন আরও জানান, মাল্টা গাছের খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও পাতা কুঁকড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তিনি বলেন, গত ছয় বছরে তিন বিঘা মাল্টা বাগানে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে নিজেই মাল্টার চারা উৎপাদন করছেন। এ বছর প্রায় ১ হাজার মাল্টার চারা তৈরি করেছেন। এসব চারা ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিটি কলমের চারা ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

বকুল হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করতে চান। পাশাপাশি উৎপাদিত চারা ও কলম বিক্রির মাধ্যমেও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক ও বেকার যুবক মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান—বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের মাটিতে মাল্টা চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করে অনেক কৃষকই সাফল্য পেয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পুষ্টিগুণ ও স্বাদ ভালো হওয়ায় বাজারে দেশীয় মাল্টার চাহিদাও বেশ ভালো।