দর্শনায় আমদানি পণ্য চুরিতে রাজি না হওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
- Update Time : ১২:০১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১২ Time View

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ,চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:নিষিদ্ধ ঘোষিত দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে এজাহার চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় রেলইয়ার্ড থেকে আমদানিকারকদের পণ্য চুরির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কাঠ ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
আহত ব্যবসায়ীর নাম মো. ওয়াসিম (৪৮)। তিনি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগরে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।চুরির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হুমকির অভিযোগ এজাহার সূত্রে জানা যায়, আহত ওয়াসিমের ছেলে মো. হাফিজুল বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন ইন্তাজ (৪৮), হুমায়ুন (৪০), রুবেল (৩০), মনিরুল হোসেন ওরফে মইন্না (৪২), সোবহান (৪২), লিটন ওরফে মুলকো (২৪) এবং ইমন (২৬)। তাঁদের সবার বাড়ি দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগরে।অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে হুমায়ুন, রুবেল ও ইমন ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে দর্শনা রেলইয়ার্ডে আমদানিকারকদের পণ্য চুরির প্রস্তাব দেন। ওয়াসিম ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।বাড়ি ফেরার পথে হামলার অভিযোগ এজাহারে বলা হয়েছে, পরদিন ২৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে হুমায়ুনের দোকানের সামনে পৌঁছালে ওয়াসিমের গতিরোধ করা হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া সাতজন তাঁকে ভ্যান থেকে নামিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, লোহার রড, জিআই পাইপ, ধারালো দা, হাসুয়া ও চাকু ছিল। এ সময় রুবেলের হাতে থাকা দা দিয়ে ওয়াসিমের গলায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে লিটন তাঁকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।পরে রুবেলের দা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার সময় তা ওয়াসিমের বাম হাঁটুতে লাগে। হুমায়ুনের দা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে তাঁর বাম হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কব্জির তিনটি হাড় কেটে টুকরা হয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।এ ছাড়া ইন্তাজের হাতে থাকা চাকুর আঘাতে ওয়াসিমের অণ্ডকোষে কাটা জখম এবং ইমনের লোহার রডের আঘাতে ঘাড়ের পেছনে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরাও লাঠি, রড, পাইপ ও কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।অচেতন অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে ভর্তিএজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাঁকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।পরে ঘটনাস্থলে থাকা এক ভ্যানচালক তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাঁকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।রেলইয়ার্ডে চক্রের তৎপরতার অভিযোগএজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দর্শনা রেলইয়ার্ডকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য। তাদের কথিত চুরির কারণে রেলইয়ার্ডে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও কমে গেছে বলে বাদী দাবি করেছেন।এ ছাড়া হুমায়ুনের দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অস্ত্রের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।চিকিৎসা গ্রহণ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করার কারণে থানায় এজাহার দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী হাফিজুল।
তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় হাফিজুল নামে একজন বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।




















