ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে কাবিননামা জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট বিয়ের অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশে বাধা ও সাংবাদিককে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১২:২৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / ৭৮ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি: নীলফামারী: নীলফামারীর জলঢাকায় একটি বিয়ের কাবিননামা জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেট করে দেনমোহর নিয়ে বাণিজ্যের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কথিত ‘ভায়া’ কাজী নুরনবী ইসলাম। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলেও বর্তমানে টাকার প্রভাবে অভিযোগকারীরাই অবস্থান পরিবর্তন করে উল্টো সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণ করছেন বলে জানা গেছে।
নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২৫-০৯-২০২৩ ইং তারিখে দক্ষিণ বাহাগিলি বড়বাড়ির মোঃ শরিফুল ইসলামের কন্যা মোছাঃ মিলতাজুন নাহার সুমাইয়ার সাথে কদমতলী (জলঢাকা পৌরসভা) এলাকার মোঃ সিরাজুল হকের পুত্র মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের সাক্ষী হিসেবে ছিলেন মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ মহুবার রহমান। উকিল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোজহারুল ইসলাম।
অভিযোগ উঠেছে, ২৫ লাখ টাকা দেনমোহরের এই বিয়েতে কাজী নুরনবী ইসলাম কাবিননামা জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করছেন। এই জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে গত ২৩-০৪-২০২৬ তারিখে প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্রসহ ‘দৈনিক বাংলাদেশ চিত্র’ পত্রিকার দপ্তরে মেইল যোগে লিখিত অভিযোগ করেন মেয়ের বড় ভাই।
তদন্তের স্বার্থে সংবাদপত্রের প্রতিনিধিরা কাজী নুরনবী ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে নিজের দোষ ঢাকতে সাংবাদিকদের ‘চা-নাস্তা’ ও ‘মোটা অংকের টাকা’র অফার দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা নীতিতে অটল থেকে এই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তিনি এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন।
সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, যারা প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, তারাই এখন রাতারাতি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। অভিযোগকারীর পরিবার এখন সংবাদকর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে এবং অর্থের বিনিময়ে নিউজ করা হচ্ছে বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানহানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাজী নুরনবী ইসলামের ‘মাস্টার প্ল্যান’ অনুযায়ী বাণিজ্যের কোনো গোপন রফাদফার মাধ্যমে অভিযোগকারী পরিবারকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
পত্রিকা কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযোগের সপক্ষে সমস্ত দালিলিক প্রমাণ সংরক্ষিত আছে। যারা সত্য গোপন করে অপরাধীকে আড়াল করতে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করছে এবং যারা জালিয়াতির হোতা, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। এই সিন্ডিকেট কেন এবং কার স্বার্থে রাতারাতি ভোল পাল্টেছে, তা প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজী নুরনবী ইসলামের জালিয়াতি সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

নীলফামারীতে কাবিননামা জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট বিয়ের অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশে বাধা ও সাংবাদিককে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা

Update Time : ১২:২৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি: নীলফামারী: নীলফামারীর জলঢাকায় একটি বিয়ের কাবিননামা জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেট করে দেনমোহর নিয়ে বাণিজ্যের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কথিত ‘ভায়া’ কাজী নুরনবী ইসলাম। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলেও বর্তমানে টাকার প্রভাবে অভিযোগকারীরাই অবস্থান পরিবর্তন করে উল্টো সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণ করছেন বলে জানা গেছে।
নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২৫-০৯-২০২৩ ইং তারিখে দক্ষিণ বাহাগিলি বড়বাড়ির মোঃ শরিফুল ইসলামের কন্যা মোছাঃ মিলতাজুন নাহার সুমাইয়ার সাথে কদমতলী (জলঢাকা পৌরসভা) এলাকার মোঃ সিরাজুল হকের পুত্র মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের সাক্ষী হিসেবে ছিলেন মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ মহুবার রহমান। উকিল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোজহারুল ইসলাম।
অভিযোগ উঠেছে, ২৫ লাখ টাকা দেনমোহরের এই বিয়েতে কাজী নুরনবী ইসলাম কাবিননামা জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করছেন। এই জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে গত ২৩-০৪-২০২৬ তারিখে প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্রসহ ‘দৈনিক বাংলাদেশ চিত্র’ পত্রিকার দপ্তরে মেইল যোগে লিখিত অভিযোগ করেন মেয়ের বড় ভাই।
তদন্তের স্বার্থে সংবাদপত্রের প্রতিনিধিরা কাজী নুরনবী ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে নিজের দোষ ঢাকতে সাংবাদিকদের ‘চা-নাস্তা’ ও ‘মোটা অংকের টাকা’র অফার দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা নীতিতে অটল থেকে এই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তিনি এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন।
সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, যারা প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, তারাই এখন রাতারাতি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। অভিযোগকারীর পরিবার এখন সংবাদকর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে এবং অর্থের বিনিময়ে নিউজ করা হচ্ছে বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানহানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাজী নুরনবী ইসলামের ‘মাস্টার প্ল্যান’ অনুযায়ী বাণিজ্যের কোনো গোপন রফাদফার মাধ্যমে অভিযোগকারী পরিবারকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
পত্রিকা কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযোগের সপক্ষে সমস্ত দালিলিক প্রমাণ সংরক্ষিত আছে। যারা সত্য গোপন করে অপরাধীকে আড়াল করতে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করছে এবং যারা জালিয়াতির হোতা, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। এই সিন্ডিকেট কেন এবং কার স্বার্থে রাতারাতি ভোল পাল্টেছে, তা প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজী নুরনবী ইসলামের জালিয়াতি সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।