ঐতিহ্যবাহী উত্তর গুজরা ধর্মচক্র বিহারে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবরদান সম্পন্ন
- Update Time : ০৯:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৭ Time View

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম):চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী উত্তর গুজরা ধর্মচক্র বিহারে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ এবং দায়ক-দায়িকাদের দান-দক্ষিণার মধ্য দিয়ে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সহ-সংঘনায়ক, মধ্যম আধার মানিক লুম্বিনী বিহারের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ভদন্ত সদ্ধর্মজ্যোতি সুনন্দ মহাথেরো। প্রধান অতিথি ছিলেন পাঁচখাইন বিপুলানন্দ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত অধ্যাপক বিপুলানন্দ মহাথেরো।
অনুষ্ঠানে শুভ আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব গুজরা হোয়ারাপাড়া মৈত্রী বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত দেবানন্দ মহাথেরো। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব গুজরা হোয়ারাপাড়া সুদর্শন বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্ঞানবিরিয় মহাথেরো, পশ্চিম গুজরা কাঝরদিঘীরপাড় জেতবন বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত বিদর্শন সচ্ছিতানন্দ মহাথেরো, জঙ্গল সলিমপুর আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভদন্ত বিদর্শন সাধক শাসনবংশ মহাথেরো, রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ফলহারিয়া সদ্ধর্মালংকার বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সংঘশ্রী থেরো, মধ্যম ইলিদপুর জ্ঞানোদয় বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জয়শ্রী ভিক্ষু এবং উত্তর গুজরা ধর্মচক্র বিহারের উপাধ্যক্ষ সম্বুদ্ধানন্দ ভিক্ষু।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উত্তর গুজরা ধর্মচক্র বিহারের সভাপতি ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার উপদেষ্টা ভদন্ত সংঘানন্দ মহাথেরো। স্বাগত বক্তব্য দেন ধর্মচক্র বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ বিপ্লব বড়ুয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লতিফা সিদ্দিকী কলেজের অধ্যাপক শিমুল বড়ুয়া ও আনন্দ মোহন বড়ুয়া। পঞ্চশীল প্রার্থনা পরিচালনা করেন অবসরপ্রাপ্ত পুলক বড়ুয়া।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অমল কান্তি বড়ুয়া। পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ করেন মধ্যম আধার মানিক কল্যাণ বিহারের ভিক্ষু রূপানন্দ ভিক্ষু।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও দানীয় উৎসব হলো কঠিন চীবরদান। বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর বা পরিধেয় বস্ত্র দানের মাধ্যমে এই উৎসব পালন করা হয়। ‘কঠিন’ শব্দটি বিশেষ নিয়মে চীবর প্রস্তুত ও দানের সঙ্গে সম্পর্কিত। বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে, বর্ষাবাস শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ্য ভিক্ষুসংঘকে কঠিন চীবর দান করা হয়। এ দানকে পুণ্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কঠিন চীবরদান শুধু বস্ত্রদানের অনুষ্ঠান নয়; এটি ত্যাগ, সংযম, মানবিকতা, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চারও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এ উৎসবের মাধ্যমে দায়ক-দায়িকারা ভিক্ষুসংঘের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উত্তর গুজরা ধর্মচক্র বিহারের এ আয়োজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্য চর্চা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।




















