দিরাই-শাল্লায় তীব্র লোডশেডিং: অন্ধকারে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
- Update Time : ১০:০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ১২ Time View

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় বর্তমানে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীরা তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।
একদিকে পরীক্ষার প্রচণ্ড চাপ, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতির চালচিত্র
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে সন্ধা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মাত্রা আকাশচুম্বী।
পড়াশোনায় ব্যাঘাতঃ পরীক্ষার্থীরা দিনের আলো শেষ হওয়ার পর যখন নিবিড়ভাবে পড়ার টেবিলে বসছে, তখনই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি বা হারিকেনের আলোতে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হচ্ছে, যা চোখের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি মনোযোগেও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
তীব্র গরম: বসন্তের বিদায়লগ্নে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। লোডশেডিংয়ের ফলে বদ্ধ ঘরে পড়াশোনা করা পরীক্ষার্থীদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আর্তনাদ
শাল্লা উপজেলার একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন,ছেলের পরীক্ষা চলছে, এই সময় বিদ্যুতের এমন ভেল্কিবাজি মানা যায় না। সারাদিন বিদ্যুৎ থাকে না, আবার রাতে যখন পড়তে বসে তখনো অন্ধকার। এভাবে চললে ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দিরাইয়ের এক পরীক্ষার্থী জানান, *”মোমবাতি জ্বালিয়ে বেশিক্ষণ পড়া যায় না, মাথা ঝিমঝিম করে। সিলেবাস শেষ করতে পারছি না লোডশেডিংয়ের কারণে।কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও জনদাবি
বিদ্যুৎ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিরাই-শাল্লা অঞ্চল বরাবরই বিদ্যুৎ সেবার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার।
এলাকাবাসীর প্রধান দাবিগুলো হলো:
পরীক্ষাকালীন সময়ে লোডশেডিং ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
বিশেষ করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
ফিডার সংস্কার বা যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত মেরামত করা।
এসএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। দিরাই ও শাল্লার হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। অন্যথায়, এই অঞ্চলের সামগ্রিক ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



















