ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠে ফসলের সবুজ সমারোহ, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ অনাবৃষ্টি, সারের সংকট ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

মোঃ রিপন ইসলাম কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩৩ Time View
Print

মোঃ রিপন ইসলাম
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। আমন ধানের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কৃষকের স্বপ্ন যেন সবুজ হয়ে ছড়িয়ে আছে মাঠজুড়ে। তবে এই সবুজের আড়ালেই রয়েছে কৃষকের নানা দুশ্চিন্তা।

চলতি আমন মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষককে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে ধান উৎপাদনের খরচ। এর পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়া এবং বাড়তি দামে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কৃষক। সব মিলিয়ে আমন চাষে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনাবৃষ্টির কারণে সেচের প্রয়োজন হলে সেই খরচ আরও বেড়ে যায়। ফলে ফসলের ফলন ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেক কৃষক।

কৃষকদের আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো ধানের ন্যায্যমূল্য। ফসল ঘরে তোলার পর বাজারে ধানের দাম কেমন থাকবে, তা নিয়ে এখন থেকেই উদ্বিগ্ন তারা। উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কমে গেলে লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কৃষকদের।

এক কৃষক বলেন, “মাঠে ফসল ভালো দেখাচ্ছে। কিন্তু ফসল ফলাতে যে টাকা খরচ হচ্ছে, ধান বিক্রি করে সেই টাকা উঠবে কি না, সেটাই চিন্তার বিষয়। সার ও সেচের খরচও অনেক বেড়েছে।”

আরেক কৃষক জানান, সময়মতো সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাওয়া গেলে এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন।

কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অনাবৃষ্টির সময়ে সেচের ব্যবস্থা সহজ করা এবং ধান বিক্রির সময় কৃষক যাতে ন্যায্য দাম পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাঠে এখন সবুজ ধানের ঢেউ। সেই সবুজের মধ্যেই কৃষকের স্বপ্ন বেড়ে উঠছে। তবে অনাবৃষ্টি, সারের সংকট ও উৎপাদন খরচের চাপের সঙ্গে লড়াই করে সেই স্বপ্ন কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার ওপর।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

মাঠে ফসলের সবুজ সমারোহ, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ অনাবৃষ্টি, সারের সংকট ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

Update Time : ০৮:০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
Print

মোঃ রিপন ইসলাম
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। আমন ধানের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কৃষকের স্বপ্ন যেন সবুজ হয়ে ছড়িয়ে আছে মাঠজুড়ে। তবে এই সবুজের আড়ালেই রয়েছে কৃষকের নানা দুশ্চিন্তা।

চলতি আমন মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষককে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে ধান উৎপাদনের খরচ। এর পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়া এবং বাড়তি দামে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কৃষক। সব মিলিয়ে আমন চাষে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনাবৃষ্টির কারণে সেচের প্রয়োজন হলে সেই খরচ আরও বেড়ে যায়। ফলে ফসলের ফলন ভালো হলেও শেষ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেক কৃষক।

কৃষকদের আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো ধানের ন্যায্যমূল্য। ফসল ঘরে তোলার পর বাজারে ধানের দাম কেমন থাকবে, তা নিয়ে এখন থেকেই উদ্বিগ্ন তারা। উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কমে গেলে লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কৃষকদের।

এক কৃষক বলেন, “মাঠে ফসল ভালো দেখাচ্ছে। কিন্তু ফসল ফলাতে যে টাকা খরচ হচ্ছে, ধান বিক্রি করে সেই টাকা উঠবে কি না, সেটাই চিন্তার বিষয়। সার ও সেচের খরচও অনেক বেড়েছে।”

আরেক কৃষক জানান, সময়মতো সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাওয়া গেলে এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন।

কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অনাবৃষ্টির সময়ে সেচের ব্যবস্থা সহজ করা এবং ধান বিক্রির সময় কৃষক যাতে ন্যায্য দাম পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাঠে এখন সবুজ ধানের ঢেউ। সেই সবুজের মধ্যেই কৃষকের স্বপ্ন বেড়ে উঠছে। তবে অনাবৃষ্টি, সারের সংকট ও উৎপাদন খরচের চাপের সঙ্গে লড়াই করে সেই স্বপ্ন কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার ওপর।