ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবসান হলো দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কয়রা ও শ্যামনগরবাসীর স্বপ্নের ‘গোবরা ঘাট’ হস্তান্তর

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / ২২ Time View
Print

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা।।
খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হাজারো মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ‘গোবরা কমিউনিটি হার্বোরিং/ঘাট’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল চারটায় গোবরা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই হস্তান্তর ও উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের অর্থায়নে এবং ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ এই আধুনিক ঘাটটি নির্মাণ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে গোবরা ঘাটটি জরাজীর্ণ থাকায় প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনা ও চরম জনদুর্ভোগ পোহাতে হতো স্থানীয়দের। এই সমস্যা সমাধানে কয়রা উপজেলা প্রশাসনের আহ্বানে ফ্রেন্ডশিপ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট ২৭৬ ফুট দীর্ঘ ঘাটের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ তাদের অংশের ১৫৬ ফুট কংক্রিটের ঢালাই কাজ সম্পন্ন করে এবং বাকি ১২০ ফুট উপজেলা প্রশাসন সম্পন্ন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ঘাটের উদ্বোধন ও হস্তান্তর করেন কয়রা উপজেলার সম্মানিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল বাকী। ফ্রেন্ডশিপের এই দ্রুত ও জনকল্যাণমুখী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন:

“গোবরা ঘাটটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফ্রেন্ডশিপ ও উপজেলা প্রশাসনের এই যৌথ উদ্যোগ স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটিয়েছে। এটি শুধু যাতায়াত সহজ করেনি, বরং দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন উপজেলা প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর দীপঙ্কর সাহা এবং সফলভাবে সঞ্চালনা করেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম।

ঘাটটি চালু হওয়ায় দুই উপজেলার শত শত মানুষের যাতায়াত যেমন নিরাপদ হয়েছে, তেমনই স্থানীয় মানুষের জীবনমান, জীবিকা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে এটি একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের এই উদ্যোগটি কেবল একটি অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম নয়; বরং এটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপদ যাতায়াত, জীবিকার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একটি সফল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ফ্রেন্ডশিপের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আপামর জনসাধারণ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

অবসান হলো দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কয়রা ও শ্যামনগরবাসীর স্বপ্নের ‘গোবরা ঘাট’ হস্তান্তর

Update Time : ১১:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
Print

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা।।
খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হাজারো মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ‘গোবরা কমিউনিটি হার্বোরিং/ঘাট’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল চারটায় গোবরা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই হস্তান্তর ও উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের অর্থায়নে এবং ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ এই আধুনিক ঘাটটি নির্মাণ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে গোবরা ঘাটটি জরাজীর্ণ থাকায় প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনা ও চরম জনদুর্ভোগ পোহাতে হতো স্থানীয়দের। এই সমস্যা সমাধানে কয়রা উপজেলা প্রশাসনের আহ্বানে ফ্রেন্ডশিপ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট ২৭৬ ফুট দীর্ঘ ঘাটের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ তাদের অংশের ১৫৬ ফুট কংক্রিটের ঢালাই কাজ সম্পন্ন করে এবং বাকি ১২০ ফুট উপজেলা প্রশাসন সম্পন্ন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ঘাটের উদ্বোধন ও হস্তান্তর করেন কয়রা উপজেলার সম্মানিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল বাকী। ফ্রেন্ডশিপের এই দ্রুত ও জনকল্যাণমুখী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন:

“গোবরা ঘাটটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফ্রেন্ডশিপ ও উপজেলা প্রশাসনের এই যৌথ উদ্যোগ স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটিয়েছে। এটি শুধু যাতায়াত সহজ করেনি, বরং দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন উপজেলা প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর দীপঙ্কর সাহা এবং সফলভাবে সঞ্চালনা করেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম।

ঘাটটি চালু হওয়ায় দুই উপজেলার শত শত মানুষের যাতায়াত যেমন নিরাপদ হয়েছে, তেমনই স্থানীয় মানুষের জীবনমান, জীবিকা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে এটি একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের এই উদ্যোগটি কেবল একটি অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম নয়; বরং এটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপদ যাতায়াত, জীবিকার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একটি সফল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ফ্রেন্ডশিপের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আপামর জনসাধারণ।