লেমুয়া ইউনিয়নে উন্নয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ
- Update Time : ০৯:০৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / ৭১ Time View

মোহাম্মদ হানিফ,স্টাফ রিপোর্টার ফেনী:
ফেনী সদর উপজেলার ৯নং লেমুয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ জহিরুল ইসলাম (শিপন)। অভিযোগের পর স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অতীতে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতামত ও জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হলেও বর্তমানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্প নির্বাচন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। ফলে সরকারি বরাদ্দের অর্থ প্রকৃত উন্নয়ন কাজে ব্যয় না হয়ে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ফেনী বিআরডিবির সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিনের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রকল্প জনগণের প্রকৃত প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার বিবেচনা না করেই অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গৃহীত বহু প্রকল্প একই ধরনের কারসাজির মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে প্রবাহ নিউজ টিভির স্টাফ রিপোর্টার আবু বক্কর ছিদ্দিক – ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“আমাকে নেতার প্রকল্পের নাম লিখে নিয়ে আসে, আমি শুধু স্বাক্ষর করে দেই।”
তার এমন বক্তব্য নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এই বক্তব্য প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অনেক প্রকল্প সরাসরি ফেনী পল্লী ভবন কার্যালয় থেকে প্রস্তুত করে উপজেলা অফিসে পাঠানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় জনগণের মতামত, বাস্তব প্রয়োজন ও জরুরি চাহিদা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থাকছে। ফলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয় এলাকাগুলো অবহেলিত রয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের ৩নং ও ৯নং ওয়ার্ডে অধিকাংশ উন্নয়ন বরাদ্দ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। অন্যদিকে বাকি ওয়ার্ডগুলোর মানুষ তাদের ন্যায্য উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে ইউনিয়নের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে।
অভিযোগকারী মোঃ জহিরুল ইসলাম (শিপন) বলেন,
“সরকারি বরাদ্দ জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রকল্প বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করুক।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়মের বিষয় তার কাছে তুলে ধরছেন। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লিখিত অভিযোগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডে সমহারে প্রকল্প বণ্টন নিশ্চিত করা,
প্রকল্প গ্রহণের আগে সরেজমিন তদন্ত ও যথাযথ যাচাই-বাছাই করা,
জনগণের জরুরি প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া,
এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
জানা গেছে, অভিযোগের অনুলিপি ফেনীর জেলা প্রশাসক এবং ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে লেমুয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—
“দুর্নীতির বিচার হোক, উন্নয়নের টাকা জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হোক।”




















