👥 প্রতিনিধি তালিকা 📰 ই-পেপার
ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকছড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উল্লাহর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০ Time View
Print

জসীমউদ্দীন মানিকছড়ি প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উল্লাহ (৮৫) আর নেই। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুর দিন বুধবার বিকেলে উপজেলার জিয়নগর এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে জানাজা ও দাফনের মাধ্যমে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাফিজ উল্লাহ মানিকছড়ি উপজেলার জিয়নগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘ জীবনের শেষ অধ্যায়ে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। বুধবার সকালে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিন বাদ আসরের আগে জিয়নগর মসজিদ মাঠে তাঁর মরদেহ নেওয়া হলে সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। এ সময় মরদেহ জাতীয় পতাকায় আবৃত করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া ও মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন চৌধুরী। পরে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষে জিয়নগর মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক সভাপতি এম. এ. করিম ও এনামুল হক এনাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মীর হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা দৌলত আহম্মেদ, সফিউল আলম চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ ছাড়া তাঁর ছোট ছেলে মো. রুবেল হোসেনসহ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা শেষে জিয়নগর মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, তিন মেয়ে, নাতি-নাতনি, জামাতা, পুত্রবধূসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক সভাপতি এম. এ. করিম ও এনামুল হক এনাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মীর হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা দৌলত আহম্মেদ ও সফিউল আলম চৌধুরী।

শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তাঁর মৃত্যুতে মানিকছড়ি উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারালেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

মানিকছড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উল্লাহর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

Update Time : ০৮:৪২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Print

জসীমউদ্দীন মানিকছড়ি প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উল্লাহ (৮৫) আর নেই। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুর দিন বুধবার বিকেলে উপজেলার জিয়নগর এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে জানাজা ও দাফনের মাধ্যমে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাফিজ উল্লাহ মানিকছড়ি উপজেলার জিয়নগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘ জীবনের শেষ অধ্যায়ে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। বুধবার সকালে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিন বাদ আসরের আগে জিয়নগর মসজিদ মাঠে তাঁর মরদেহ নেওয়া হলে সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। এ সময় মরদেহ জাতীয় পতাকায় আবৃত করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া ও মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন চৌধুরী। পরে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষে জিয়নগর মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক সভাপতি এম. এ. করিম ও এনামুল হক এনাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মীর হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা দৌলত আহম্মেদ, সফিউল আলম চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ ছাড়া তাঁর ছোট ছেলে মো. রুবেল হোসেনসহ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা শেষে জিয়নগর মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, তিন মেয়ে, নাতি-নাতনি, জামাতা, পুত্রবধূসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক সভাপতি এম. এ. করিম ও এনামুল হক এনাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মীর হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা দৌলত আহম্মেদ ও সফিউল আলম চৌধুরী।

শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তাঁর মৃত্যুতে মানিকছড়ি উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারালেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।