মধ্যরাতে মুখোশধারীদের তাণ্ডব: ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ, আগুন ও ককটেল হামলায় আতঙ্কে পরিবারগুলো
- Update Time : ০৮:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
- / ৫৩ Time View

মোহাম্মদ হানিফ,স্টাফ রিপোর্টার ফেনী:
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বড় হালিয়া গ্রামে বাড়ি আবদুর আজিজ কবিরাজ বাড়ি। টানা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে একাধিক পরিবার। আগুন দিয়ে ফসল নষ্ট, বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সর্বশেষ মধ্যরাতে ঘরবাড়ি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখার মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৫ মে) আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগী মারজান আক্তার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় তিন মাস আগে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাদের বসতঘরে আগুন লাগায় এবং ফসলি জমিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুরো ফসল পুড়িয়ে দেয়। এতে পরিবারটি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে।
গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় আবারও হামলা চালানো হয় বলে জানান তিনি। এ সময় দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে ৪ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশধারী হামলাকারীরা বাড়ির জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে বাড়ির একাধিক পরিবারের ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা ও রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, যাতে কেউ বের হয়ে সাহায্য চাইতে না পারে। তারা এটিকে পরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের চেষ্টা বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ দুলাল, আব্দুল মতিন, খুরশিদ আলম, মোশারফ হোসেন, সোহেল, মামুন, ওমর ফারুক, ওবায়দুল হক, নুরুল আমিন, নূরনবী, আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ আরিফ, কামরুন নাহারসহ আরও অনেকে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।


















