ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রামের ফটো গ্যালারিতে স্থান পেলেন ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার ছবি

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৮ Time View
Print

★ শ্রী সুপণ বিশ্বাস- (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম।)
ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া, উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ। যিনি একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, গীতিকার, প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও উপন্যাসিক। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি একজন সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবেই সমাধিক পরিচিত। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক জনাবা শাহীন আকতার মহোদয় ও উপ-আঞ্চলিক পরিচালক তাব্বাসুম হক মহোদয়ের এর হাতে ওস্তাদ অমিতাভ-পায়রা ফাউন্ডেশন এর কর্মকর্তারা ওস্তাদজীর এই দুর্লভ ছবি তুলে দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ওস্তাদজীর কন্যা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী পাপিয়া বড়ুয়া, ফাউন্ডেশন এর সদস্য সাংবাদিক রতন বড়ুয়া ও চ্যানেল আই তারকা সংগীত শিল্পী জনি বড়ুয়া।
ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার ছবি গ্রহন করায় আঞ্চলিক পরিচালক ও উপ-আঞ্চলিক পরিচালকের প্রতি অমিতাভ পায়রা ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
সংগীতে নিবেদিত প্রাণ নিভৃতচারী সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া’র জন্ম ১৯২৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামে। বাবা হলধর বড়ুয়া ও মা বঙ্গবালা বড়ুয়া’র দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া এবং তার একমাত্র ছোট বোন দীপ্তি বড়ুয়া।
মহামুনি পাহাড়তলীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তাঁকে সংগীত সাধনায় প্রেরণা যুগিয়েছে। একই গ্রামের কৃতিপুরুষ সংগীত সাধক মোহনচন্দ্র বড়ুয়া ও জেঠামশাই মুনিন্দ্রলাল বড়ুয়া’র কাছ থেকে তিনি প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তাঁর গুরু ছিলেন ওস্তাদ মকসুদ আলী খান, ওস্তাদ ফজলুল হক।

ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে “প্রাচ্য ছন্দগীতিকা” এবং “শ্বাশত ললিতকলা একাডেমি”-তে দীর্ঘদিন যাবত নিযুক্ত ছিলেন। অধ্যক্ষ হিসেবে প্রথমে “সঙ্গীত পরিষদ” এবং আমৃত্যু ওস্তাদ নীরদবরণ বড়ুয়া প্রতিষ্ঠিত “সুরসপ্তক সংগীত বিদ্যাপীঠ”-এ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। উচাঙ্গ সঙ্গীত ছাড়াও তিনি আঞ্চলিক, লোকগীতি ও আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে একসময় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।
১৯৬০ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর HMV কোম্পানীতে প্রথম ৬টি গ্রামোফোন রেকর্ডে তাঁর ১২টি গান প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৬২ সালের ৭ই ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ স্টেশন চালুর দিন থেকে তিনি গীতিকার ও শিল্পী হিসেবে আমৃত্যু যুক্ত ছিলেন।
চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রেও তিনি বেশ কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তাঁর লেখা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান “গুরা বউ সইন্ধ্যাকালে চেরাগ দিতো গেইল” শিল্পী শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের কণ্ঠে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
তাছাড়া তিনি ঐ সময় জাতীয় গণমাধ্যম বেতার ও টেলিভিশনের বিচারকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ছিলেন। তার শিষ্যদের মধ্যে দিলারা আলো, আরেফিন হক আলো, কল্যানী ঘোষ, মিনতি পাল, মানস পাল চৌধুরী, সুলতানা শারমিন, পাপিয়া আহমেদ প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

মহুয়া ছদ্মনামে তিনি একসময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচুর গল্প, কবিতা, নিবন্ধ, প্রবন্ধ লিখেছেন। “প্রভাতী” “বহ্নিশিখা” শিরোনামে দুটো কাব্যগ্রন্থ, “গীতিশতক” নামে একটি গানের সংকলন, ওস্তাদ জগদানন্দ বড়ুয়ার পিতা মোহনচন্দ্র বড়ুয়া’র জীবনীগ্রন্থ “জ্ঞানতাপস” প্রভৃতি তাঁর উল্ল্যেখযোগ্য গ্রন্থ। এছাড়া “গল্প তেরশ সাতাত্তর” “পাথেয়” ও “ঝরাফুল” নামে উপন্যাসগুলো বিভিন্ন দৈনিকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
নিভৃতচারী এই সঙ্গীতশিল্পী ও সাহিত্য সাধকের জীবদ্দশায় বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টিপ্রচার সংঘ তাঁকে “গীতশ্রী” ও “সাহিত্যরত্ন” উপাধি প্রদান করে।
এছাড়া চট্টল ইয়ুথ স্কয়ার, মহামুনি সাংস্কৃতিক সংঘ, মহামুনি তরুণ সংঘ, নাজিরহাট সঙ্গীতাঙ্গন, রমনী মোহন স্মৃতি সংসদ, রাউজান সরগম সঙ্গীত বিদ্যালয়, প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে।
এশিয়া মহাদেশের প্রথম “ডি-লিট” প্রাপ্ত বেণীমাধব বড়ুয়া’র নাতনী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঘাটচেক গ্রামের শিক্ষক, চিকিৎক ও তৎকালীন মেম্বার বাবু সুনিল কান্তি বড়ুয়া ও সুগৃহিনী আশালতা বড়ুয়ার কন্যা সবিতা বড়ুয়া পায়রা-এর সাথে ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া ও সবিতা বড়ুয়া পায়রা ৪ পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক-জননী।
তাঁর পুত্র-কন্যারা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার এক সন্তান ফ্রান্স প্রবাসী অনুভব বড়ুয়া ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত তবলা শিল্পী,মেয়ে পাপিয়া বড়ুয়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। ২০০৭ সালের ১১ জুলাই মহান শিল্পী, সাংস্কৃতিপ্রেমী, সুরকার ও গীতিকার ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া পরলোকগমন করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রামের ফটো গ্যালারিতে স্থান পেলেন ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার ছবি

Update Time : ১২:৩৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
Print

★ শ্রী সুপণ বিশ্বাস- (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম।)
ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া, উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ। যিনি একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, গীতিকার, প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও উপন্যাসিক। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি একজন সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবেই সমাধিক পরিচিত। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক জনাবা শাহীন আকতার মহোদয় ও উপ-আঞ্চলিক পরিচালক তাব্বাসুম হক মহোদয়ের এর হাতে ওস্তাদ অমিতাভ-পায়রা ফাউন্ডেশন এর কর্মকর্তারা ওস্তাদজীর এই দুর্লভ ছবি তুলে দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ওস্তাদজীর কন্যা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী পাপিয়া বড়ুয়া, ফাউন্ডেশন এর সদস্য সাংবাদিক রতন বড়ুয়া ও চ্যানেল আই তারকা সংগীত শিল্পী জনি বড়ুয়া।
ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার ছবি গ্রহন করায় আঞ্চলিক পরিচালক ও উপ-আঞ্চলিক পরিচালকের প্রতি অমিতাভ পায়রা ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
সংগীতে নিবেদিত প্রাণ নিভৃতচারী সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া’র জন্ম ১৯২৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামে। বাবা হলধর বড়ুয়া ও মা বঙ্গবালা বড়ুয়া’র দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া এবং তার একমাত্র ছোট বোন দীপ্তি বড়ুয়া।
মহামুনি পাহাড়তলীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তাঁকে সংগীত সাধনায় প্রেরণা যুগিয়েছে। একই গ্রামের কৃতিপুরুষ সংগীত সাধক মোহনচন্দ্র বড়ুয়া ও জেঠামশাই মুনিন্দ্রলাল বড়ুয়া’র কাছ থেকে তিনি প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তাঁর গুরু ছিলেন ওস্তাদ মকসুদ আলী খান, ওস্তাদ ফজলুল হক।

ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে “প্রাচ্য ছন্দগীতিকা” এবং “শ্বাশত ললিতকলা একাডেমি”-তে দীর্ঘদিন যাবত নিযুক্ত ছিলেন। অধ্যক্ষ হিসেবে প্রথমে “সঙ্গীত পরিষদ” এবং আমৃত্যু ওস্তাদ নীরদবরণ বড়ুয়া প্রতিষ্ঠিত “সুরসপ্তক সংগীত বিদ্যাপীঠ”-এ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। উচাঙ্গ সঙ্গীত ছাড়াও তিনি আঞ্চলিক, লোকগীতি ও আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে একসময় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।
১৯৬০ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর HMV কোম্পানীতে প্রথম ৬টি গ্রামোফোন রেকর্ডে তাঁর ১২টি গান প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৬২ সালের ৭ই ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ স্টেশন চালুর দিন থেকে তিনি গীতিকার ও শিল্পী হিসেবে আমৃত্যু যুক্ত ছিলেন।
চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রেও তিনি বেশ কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তাঁর লেখা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান “গুরা বউ সইন্ধ্যাকালে চেরাগ দিতো গেইল” শিল্পী শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের কণ্ঠে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
তাছাড়া তিনি ঐ সময় জাতীয় গণমাধ্যম বেতার ও টেলিভিশনের বিচারকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ছিলেন। তার শিষ্যদের মধ্যে দিলারা আলো, আরেফিন হক আলো, কল্যানী ঘোষ, মিনতি পাল, মানস পাল চৌধুরী, সুলতানা শারমিন, পাপিয়া আহমেদ প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

মহুয়া ছদ্মনামে তিনি একসময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচুর গল্প, কবিতা, নিবন্ধ, প্রবন্ধ লিখেছেন। “প্রভাতী” “বহ্নিশিখা” শিরোনামে দুটো কাব্যগ্রন্থ, “গীতিশতক” নামে একটি গানের সংকলন, ওস্তাদ জগদানন্দ বড়ুয়ার পিতা মোহনচন্দ্র বড়ুয়া’র জীবনীগ্রন্থ “জ্ঞানতাপস” প্রভৃতি তাঁর উল্ল্যেখযোগ্য গ্রন্থ। এছাড়া “গল্প তেরশ সাতাত্তর” “পাথেয়” ও “ঝরাফুল” নামে উপন্যাসগুলো বিভিন্ন দৈনিকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
নিভৃতচারী এই সঙ্গীতশিল্পী ও সাহিত্য সাধকের জীবদ্দশায় বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টিপ্রচার সংঘ তাঁকে “গীতশ্রী” ও “সাহিত্যরত্ন” উপাধি প্রদান করে।
এছাড়া চট্টল ইয়ুথ স্কয়ার, মহামুনি সাংস্কৃতিক সংঘ, মহামুনি তরুণ সংঘ, নাজিরহাট সঙ্গীতাঙ্গন, রমনী মোহন স্মৃতি সংসদ, রাউজান সরগম সঙ্গীত বিদ্যালয়, প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে।
এশিয়া মহাদেশের প্রথম “ডি-লিট” প্রাপ্ত বেণীমাধব বড়ুয়া’র নাতনী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঘাটচেক গ্রামের শিক্ষক, চিকিৎক ও তৎকালীন মেম্বার বাবু সুনিল কান্তি বড়ুয়া ও সুগৃহিনী আশালতা বড়ুয়ার কন্যা সবিতা বড়ুয়া পায়রা-এর সাথে ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া ও সবিতা বড়ুয়া পায়রা ৪ পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক-জননী।
তাঁর পুত্র-কন্যারা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার এক সন্তান ফ্রান্স প্রবাসী অনুভব বড়ুয়া ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত তবলা শিল্পী,মেয়ে পাপিয়া বড়ুয়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। ২০০৭ সালের ১১ জুলাই মহান শিল্পী, সাংস্কৃতিপ্রেমী, সুরকার ও গীতিকার ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া পরলোকগমন করেন।