ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বইয়ের পাতার বাইরে মেধা-মনন ও খেলাধুলায় পূর্ণাঙ্গ মানুষ গড়ার আহ্বান পবিপ্রবি উপাচার্যের ‎

মোঃ সজিব সরদার
  • Update Time : ১২:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১২ Time View
Print


‎মোঃ সজিব সরদার
‎স্টাফ রিপোর্টারঃ শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; মেধা, মনন, শৃঙ্খলা ও শারীরিক সক্ষমতার সুসমন্বিত বিকাশের মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান।

‎তিনি বলেন, “খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি জীবন গড়ার এক অনন্য পাঠশালা। মাঠের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, ধৈর্য, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ায়।

‎মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য। ‘A Year of Sports, Speed and Success’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‎ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন।

‎এ সময় আরও বক্তব্য দেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনিসহ সংশ্লিষ্টরা।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, গত এক বছর ধরে পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম ও ল্যাবরেটরির পাশাপাশি খেলার মাঠেও মেধা, গতি ও অদম্য সংকল্পের পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঠের প্রতিযোগিতা শুধু জয়-পরাজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শৃঙ্খলা, ধৈর্য, নেতৃত্ব এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করে।

‎তিনি বলেন, “তোমাদের গতি ও সাফল্য কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাঠের এই শৃঙ্খলা এবং হার না মানার মানসিকতা আগামী দিনের কর্মজীবনে তোমাদের একেকজন সফল নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

‎শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “তোমরাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। আমরা পবিপ্রবিকে একটি ছাত্রকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

‎খেলাধুলার অবকাঠামো ও কার্যক্রমের উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবে।

‎অনুষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন উপাচার্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। এ সময় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

‎পুরস্কার বিতরণ শেষে আলোকতরী সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত, নৃত্যসহ নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের পরিবেশ।

‎অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

বইয়ের পাতার বাইরে মেধা-মনন ও খেলাধুলায় পূর্ণাঙ্গ মানুষ গড়ার আহ্বান পবিপ্রবি উপাচার্যের ‎

Update Time : ১২:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print


‎মোঃ সজিব সরদার
‎স্টাফ রিপোর্টারঃ শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; মেধা, মনন, শৃঙ্খলা ও শারীরিক সক্ষমতার সুসমন্বিত বিকাশের মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান।

‎তিনি বলেন, “খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি জীবন গড়ার এক অনন্য পাঠশালা। মাঠের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, ধৈর্য, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ায়।

‎মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য। ‘A Year of Sports, Speed and Success’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‎ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন।

‎এ সময় আরও বক্তব্য দেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনিসহ সংশ্লিষ্টরা।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, গত এক বছর ধরে পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম ও ল্যাবরেটরির পাশাপাশি খেলার মাঠেও মেধা, গতি ও অদম্য সংকল্পের পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঠের প্রতিযোগিতা শুধু জয়-পরাজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শৃঙ্খলা, ধৈর্য, নেতৃত্ব এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করে।

‎তিনি বলেন, “তোমাদের গতি ও সাফল্য কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাঠের এই শৃঙ্খলা এবং হার না মানার মানসিকতা আগামী দিনের কর্মজীবনে তোমাদের একেকজন সফল নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

‎শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “তোমরাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। আমরা পবিপ্রবিকে একটি ছাত্রকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

‎খেলাধুলার অবকাঠামো ও কার্যক্রমের উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবে।

‎অনুষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন উপাচার্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। এ সময় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

‎পুরস্কার বিতরণ শেষে আলোকতরী সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত, নৃত্যসহ নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের পরিবেশ।

‎অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়।