ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শারমিন হার মানেননি: চাকরির পরীক্ষায় শ্রুতি লেখক নিয়ে হয়রানির শিকার: প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : ১০:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / ১২ Time View
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উচ্চশিক্ষিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শারমিন আক্তার বিভিন্ন চাকরির জন্য আবেদন পরবর্তী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কালিন সময়ে তার শ্রুতি লেখককে কেন্দ্র করে ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার ৫নং কৈখালী ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ডের কারিগরপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদ কারিগরের কন্যা। পরিবার সুত্রে জানা যায়, শারমিন আক্তার(২৮) মাত্র ৮ বছর বয়সে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনারত অবস্থায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তখন পিতা আব্দুল মজিদ তার চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, নিজের স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তি বিক্রি করে শারমিনের চোখের চিকিৎসায় ব্যয় করলেও তিনি দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে পান নাই। সে শোকে তার পিতা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার কলেজ পড়ুয়া ভাই পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি ও কৃষিকাজ করে সংসারের হাল ধরেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও শারমিনের ইচ্ছা শক্তি ও বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণা এবং সহোযোগিতায় অনেক কষ্টে পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি স্থানীয় কৈখালী “এস আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়” থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর বেগম বদরুন্নেছা মহিলা কলেজ, ডেমরা, ঢাকা থেকে এইচ,এস,সি পাশ করেন। অতঃপর তিনি ২০১৭-১৮ সেশনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০২৪ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শারমিন আক্তার বলেন, ছোটবেলায় আমি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেললেও আমার পড়াশোনা করার অদম্য ইচ্ছা ছিল আর আমার ভাইয়ের অনুপ্রেরণা সহ তার এবং আত্মীয়-স্বজনের আর্থিক সহযোগিতায় আমি পড়াশোনা চালিয়ে যাই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করার পর অসুস্থ পিতা সহ পরিবারের একটু সহায়তার জন্য একটি চাকরির আশায় আমি সার্কুলার অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় চাকরির আবেদন করি। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়োগ পরিক্ষার সময় আমার শ্রুতি লেখক নিয়ে ব্যাপকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি।আমার অনুমোদিত শ্রুতি লেখককে বাদ দিয়ে তাদের দেওয়া শ্রুতি লেখককে নিয়ে আমার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয় কিন্তু সে সঠিক ভাবে প্রশ্ন পড়ে আমাকে শোনাতে পারে না। আবার আমার বলে দেওয়া উত্তর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখে শেষ করতে পারে না। যে কারণে আমার দ্বারা এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টিকে থাকা অসম্ভব।তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, সর্বশেষ আমি বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য গত ১৬মে সৈয়দ শামসুল হক স্কুল এন্ড কলেজ মাতুয়াইল ডেমরা পরীক্ষা কেন্দ্রে আমার শ্রুতি লেখক নিয়ে সশরীরে উপস্থিত হই কিন্তু সেখানে দায়িত্ব থাকা একজন কর্মকর্তা আমাকে পরীক্ষা দিতে বাধা দেন।আমি তার নাম পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে বাধ্য নন বলে জানান। এক পর্যায়ে আমি পরীক্ষা না দিয়ে চলে আসতে বাধ্য হই। আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় এই আমলাতান্ত্রিক কাঠামোগত হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।যাতে করে আমি সহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কোন প্রকার হয়রানি ছাড়াই চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। আমার মতো আর কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন আর হয়রানির শিকার না হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শারমিন হার মানেননি: চাকরির পরীক্ষায় শ্রুতি লেখক নিয়ে হয়রানির শিকার: প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

Update Time : ১০:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
Print

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উচ্চশিক্ষিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শারমিন আক্তার বিভিন্ন চাকরির জন্য আবেদন পরবর্তী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কালিন সময়ে তার শ্রুতি লেখককে কেন্দ্র করে ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার ৫নং কৈখালী ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ডের কারিগরপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদ কারিগরের কন্যা। পরিবার সুত্রে জানা যায়, শারমিন আক্তার(২৮) মাত্র ৮ বছর বয়সে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনারত অবস্থায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তখন পিতা আব্দুল মজিদ তার চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, নিজের স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তি বিক্রি করে শারমিনের চোখের চিকিৎসায় ব্যয় করলেও তিনি দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে পান নাই। সে শোকে তার পিতা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার কলেজ পড়ুয়া ভাই পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি ও কৃষিকাজ করে সংসারের হাল ধরেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও শারমিনের ইচ্ছা শক্তি ও বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণা এবং সহোযোগিতায় অনেক কষ্টে পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি স্থানীয় কৈখালী “এস আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়” থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর বেগম বদরুন্নেছা মহিলা কলেজ, ডেমরা, ঢাকা থেকে এইচ,এস,সি পাশ করেন। অতঃপর তিনি ২০১৭-১৮ সেশনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০২৪ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শারমিন আক্তার বলেন, ছোটবেলায় আমি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেললেও আমার পড়াশোনা করার অদম্য ইচ্ছা ছিল আর আমার ভাইয়ের অনুপ্রেরণা সহ তার এবং আত্মীয়-স্বজনের আর্থিক সহযোগিতায় আমি পড়াশোনা চালিয়ে যাই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করার পর অসুস্থ পিতা সহ পরিবারের একটু সহায়তার জন্য একটি চাকরির আশায় আমি সার্কুলার অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় চাকরির আবেদন করি। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়োগ পরিক্ষার সময় আমার শ্রুতি লেখক নিয়ে ব্যাপকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি।আমার অনুমোদিত শ্রুতি লেখককে বাদ দিয়ে তাদের দেওয়া শ্রুতি লেখককে নিয়ে আমার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয় কিন্তু সে সঠিক ভাবে প্রশ্ন পড়ে আমাকে শোনাতে পারে না। আবার আমার বলে দেওয়া উত্তর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখে শেষ করতে পারে না। যে কারণে আমার দ্বারা এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টিকে থাকা অসম্ভব।তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, সর্বশেষ আমি বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য গত ১৬মে সৈয়দ শামসুল হক স্কুল এন্ড কলেজ মাতুয়াইল ডেমরা পরীক্ষা কেন্দ্রে আমার শ্রুতি লেখক নিয়ে সশরীরে উপস্থিত হই কিন্তু সেখানে দায়িত্ব থাকা একজন কর্মকর্তা আমাকে পরীক্ষা দিতে বাধা দেন।আমি তার নাম পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে বাধ্য নন বলে জানান। এক পর্যায়ে আমি পরীক্ষা না দিয়ে চলে আসতে বাধ্য হই। আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় এই আমলাতান্ত্রিক কাঠামোগত হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।যাতে করে আমি সহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কোন প্রকার হয়রানি ছাড়াই চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। আমার মতো আর কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন আর হয়রানির শিকার না হয়।