ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে টেকসই কৃষি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৭ Time View
Print

মোঃ মুনাইম হোসেন, জীবননগর প্রতিনিধি :

টেকসই কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে জৈব-বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) ব্যবহারের ওপর একটি ব্যতিক্রমধর্মী কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমান কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বায়োপেস্টিসাইডকে একটি কার্যকর, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়। এতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন টেকসই করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়াও কর্মশালায় ব্র্যাক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বিভিন্ন বীজ যেমন— হাইব্রিড ধান “রাজা”, করলা বীজ “মনি”, ভুট্টা ১৬৪ এবং উন্নতমানের আলু বীজসহ অন্যান্য বীজের বৈশিষ্ট্য ও চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো. আক্তারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগরের সেলিম বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলার টেরিটরি সেলস অফিসার মো. জাকির হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-কোটচাঁদপুর টেরিটরি অফিসার আল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কর্মশালায় জীবননগর উপজেলার মোট ৫৫ জন মডেল কৃষক অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে কৃষকদের বায়োপেস্টিসাইডের পরিচিতি, সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি, কার্যকারিতা এবং ফসলের ক্ষতিকর রোগ ও পোকা দমনে এর ভূমিকা সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন,
“রাসায়নিক কীটনাশক থেকে বায়োপেস্টিসাইডে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের মধ্যে জৈব-বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। দেশের কৃষি উন্নয়নে ব্র্যাক সিডের এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে জৈব-বালাইনাশকের কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

জীবননগরে টেকসই কৃষি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৫:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Print

মোঃ মুনাইম হোসেন, জীবননগর প্রতিনিধি :

টেকসই কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে জৈব-বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) ব্যবহারের ওপর একটি ব্যতিক্রমধর্মী কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমান কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বায়োপেস্টিসাইডকে একটি কার্যকর, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়। এতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন টেকসই করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়াও কর্মশালায় ব্র্যাক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বিভিন্ন বীজ যেমন— হাইব্রিড ধান “রাজা”, করলা বীজ “মনি”, ভুট্টা ১৬৪ এবং উন্নতমানের আলু বীজসহ অন্যান্য বীজের বৈশিষ্ট্য ও চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো. আক্তারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগরের সেলিম বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলার টেরিটরি সেলস অফিসার মো. জাকির হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-কোটচাঁদপুর টেরিটরি অফিসার আল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কর্মশালায় জীবননগর উপজেলার মোট ৫৫ জন মডেল কৃষক অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে কৃষকদের বায়োপেস্টিসাইডের পরিচিতি, সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি, কার্যকারিতা এবং ফসলের ক্ষতিকর রোগ ও পোকা দমনে এর ভূমিকা সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন,
“রাসায়নিক কীটনাশক থেকে বায়োপেস্টিসাইডে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের মধ্যে জৈব-বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। দেশের কৃষি উন্নয়নে ব্র্যাক সিডের এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে জৈব-বালাইনাশকের কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।