আশুলিয়ায় নাম বদলে আত্মগোপন ঝিনাইদহের আলোচিত ব্যবসায়ী সুলতান হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিআইডির জালে
- Update Time : ০৩:০৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৪ Time View

রাসেল হোসেন ঝিনাইদহ:ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের বিশিষ্ট্য বসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ ১৩ বছর ছদ্মনামে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তাকে আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর নজরদারিতে আনা সম্ভব হলো।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার আলম মার্কেট থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত চঞ্চল বিশ্বাস ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ভুটিয়ারগাতী গ্রামের জহর বিশ্বাসের ছেলে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সুলতান আহমেদ ঝিনাইদহ পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন এলাকায় গ্রিল মেকানিকের ব্যবসার পাশাপাশি ঠিকাদারি করতেন। চুয়াডাঙ্গার একটি ঠিকাদারি কাজের পাওনা টাকা নিয়ে আসামির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য চলছিল।
এই বিরোধের জের ধরে ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় চঞ্চল মুঠোফোনে সুলতানকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন ৩০ জুন সকালে উপজেলার উদয়পুর গ্রামের একটি মাঠ থেকে তার বস্তাবন্দি ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পরপরই নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চলকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ ২০১৫ সালের ১৭ জুন চঞ্চল ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। তবে বিচার কার্যক্রম এড়াতে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশের আবেদন করলে মামলার আইনি প্রক্রিয়া থমকে যায়।
সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলে বিচারক মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে ন্যস্ত করেন।
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত) আখতার হোসেন মিনা জানান, “তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। চঞ্চল নিজের পরিচয় গোপন করতে ‘সুজা বিশ্বাস’ নাম ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ঝিনাইদহ সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে নতুন কোনো সংশ্রব পাওয়া গেলে সম্পূরক চার্জশিট পেশ করা হবে।




















