ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই প্রতিভা যেন থাকে সযত্নে

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / ৪২ Time View

Screenshot

Print

★ শ্রী সুপণ বিশ্বাস (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম)

বিশ্ববরেণ্য কিংবদন্তী মহামানব মহাত্মা স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন…….You are the creator of your Own destiny. All power is within you. You can do anything and everything. (তুমিই তোমার ভাগ্যের নির্মাতা।তোমার মধ্যে সমস্ত শক্তি নিহিত আছে। তুমি করতে পারো যেকোন কিছু এবং সবকিছু)
ব্যক্তিজীবনে, সমাজ জীবনে এবং জাতীয় জীবনে আমাদের অগণিত সমস্যা এবং প্রতিবন্ধকতা। জনসংখ্যার ভয়াবহ বিস্ফোরণে দেশের অর্থনীতি ভারাক্রান্ত। স্বাধীনতার এত বছর পরেও জনগণের বিরাট অংশের বাস দারিদ্র সীমার নীচে। ব্যাপক হারে কর্মহীনতা বিরাজমান। সুদীর্ঘ কাল সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের শাসনশোষণ এবং প্রবঞ্চনায় জাতীয় প্রাণশক্তি স্তিমিত, পশ্চিমা পাক বাহিনীর চরম বঞ্চনা ও শোষণে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড এখনো জীর্ণপ্রায়। ব্রিটিশ কর্তৃক শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন হয়েছিল সুযোগ্য আজ্ঞাবাহী কিছু কেরানী সৃষ্টির লক্ষ্যে। ফলে আজও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকাংশে সেই একই উদ্দেশ্য সাধন করে চলেছে। ফলশ্রুতিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের বৈচিত্রপূর্ণ মেধার যেমন পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার হচ্ছে না, তেমনি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সম্প্রদায়ও আবদ্ধ হয়ে আছে সীমাবদ্ধ কতগুলো বৃত্তি বা পেশার মাঝে। ব্রহ্মাণ্ডে অজস্র সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র আজও রয়ে গেছে অব্যবহৃত।সম্ভবত যুগোপযোগী আধুনিক এবং প্রযুক্তিসমন্বিত কর্মমুখী শিক্ষা এবং তার সাথে সাথে বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার আমাদের জাতীয় জীবনে পরিবর্তন সূচিত করবে। দেশ হতে অভিশপ্ত কর্মহীনতার হতাশা হ্রাস পাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।শুধু বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে মূল্যবান সার্টিফিকেট সংগ্রহ নয়,অথবা তথাকথিত গৌরবমণ্ডিত শিক্ষায়তনের বড় ডিগ্রি হাসিল নয়,বরং প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, বাস্তবধর্মী জীবনঘনিষ্ঠ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবন সংগ্রামের জন্যে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। ইচ্ছে শক্তি প্রকট হলে পাহাড়সম সমস্যাকেও অতিক্রম করে সফলকাম হওয়া যায়। সে রকম একজন প্রচণ্ড ইচ্ছেশক্তি সম্পন্না বহুমুখী প্রতিভার কথাই আজকের লেখার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।শ্রীমানি পলি দত্ত। সদাহাস্যজ্বল, সহজ সরল জীবনযাপনে অভ্যস্থ, লাবণ্যময়ী ও আদুরে মেয়ে পলি। মা সীমা দত্ত, বাবা আশীষ দত্তের দ্বিতীয় তম সন্তান। একভাই দুই বোনের মধ্যে পলি দ্বিতীয়। পলি বুড়ি, পলি মা,পলিস গ্যালারী নানা নামে তাকে আমি ডাকি। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিনাজুরী গ্রামের মেয়ে পলি। বৃক্ষরাজির অপূর্ব প্রকৃতি ঘেরা ঐতিহ্যবাহী দত্ত বাড়ির মেয়ে পলি অজপাড়াগাঁয়ে থেকে আপন প্রতিভার দ্যুতি ছড়াচ্ছেন নানাভাবে। রাউজান সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মিতালী সংঘ কর্তৃক পরিচালিত বিনাজুরী সনাতনী গীতা সংঘের মেধাবী ছাত্রী পলি মা পড়ালেখার পাশাপাশি ধর্মচর্চা, বৃক্ষরোপণ, রান্নাবান্না, বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন, ফেব্রিক্সের কাজ, বুটিক্স, সেলাই, আলপনা, হোমমেইডের কাজ, বিয়ে সম্পর্কিত বিভিন্ন সামগ্রী অংকন,নৃত্য, বাগান করা, ভজনকীর্তন সহ বহুমুখী বিদ্যায় পারদর্শী। ছোটবেলা থেকেই পলি মার চিত্রাঙ্কনে ঝুঁক। তার মুখে জানতে পারলাম আর্টে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। সখের বসে নিজ থেকেই শিখেছে সব। ছোটো থেকে আর্ট শিখার প্রচণ্ড ইচ্ছে থাকলেও আর্থিক অবস্থার কারণে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিখতে পারে নাই। মা বাবার পাশাপাশি পারিবারিক দুই ভালো দিদি মুন্না দত্ত, মুন দত্তই তার সমস্ত কাজের অনুপ্রেরণা দানকারী। প্রিয় মামণি পলির ভবিষ্যৎ স্বপ্ন হলো যদি পারিবারিক, পারিপার্শ্বিক, সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় কোন সহযোগিতা পাওয়া যাই তাহলে হাতের কাজ দিয়ে একটা বিজনেস প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা।আমার বুদ্ধির বয়স হতে যেকোন প্রতিভাকে মূল্যায়ণ ও প্রতিভাবানদের প্রতি আমার একটা বড় ধরণের দুর্বলতা রয়েছে। আমি অন্তর থেকে বিশ্বাস করি প্রতিভা স্বয়ং মহান ঈশ্বর প্রদত্ত। প্রতিভাবানদের বিধাতা একটু ভিন্নভাবে ভালোবাসেন, আঁকড়ে রাখেন আবার তাঁদের মানসিকভাবে শক্তপোক্ত ও সুদৃঢ় করতে পরীক্ষাও বেশি করেন। প্রতিভার যথাযথ যত্ন-লালন-পালনে জগতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হয়। পুরো বিশ্বের পরতে পরতে পলির মত কত শত প্রতিভা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আত্মকেন্দ্রিক সমাজে হয়তোবা তাদের খবর নেওয়ার সময় আমাদের হয়ে উঠেনা কিংবা ইচ্ছেও থাকেনা। পারিবারিক অস্বচ্ছলতা,অনুপ্রেরণার অভাবে,উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে, সামাজিকভাবে অনুদ্যোগের কারণে অকালে এমন প্রতিভা ঝড়ে পরে।
আমি সমাজের উচ্চ মধ্যবিত্ত ও বিত্তবানদের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করে বলবো কয়দিন বাঁচবেন তাই আসুন না নিজেদের অর্জিত সম্পদ হতে বিন্দু বিন্দু সহযোগিতা করে পলির মত প্রতিভাদের বিশ্বজয়ী হওয়ার স্বপ্ন গুলো পূরণে একটু সহযোগী হই। ভগবান না করুক হয়তোবা দেখবেন নিজেদের সন্তান একটা সময়ে আপনাকে বোজা মনে করে অযত্নে, অবহেলায় ও অবজ্ঞায় ছুঁড়ে ফেলে দিবে; সে কঠিন সময়ে বিধাতা হয়তো জীবনে যে ভাল কাজগুলো করেছেন তার ফলস্বরূপ তথা প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করার ক্ষেত্রে সহযোগী ভূমিকা পালনের জন্যে সে পরের সন্তানদের হাতেই আপনার শেষ জীবনের সেবা পাওয়ার সৌভাগ্য লিখে রেখেছেন। কারণ জীবন বড় রহস্যময়, কার কখন কি হয় কেও জানেনা। আমি গর্বিত এমন উদ্যোগী, উদ্যোমি, পরিশ্রমী, অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিভাসম্পন্না ছাত্রীর শিক্ষক হতে পেরে। একজন শিক্ষকের সবচেয়ে উত্তম প্রাপ্তি হচ্ছে শিক্ষার্থীর ভালোবাসা,
সম্মান, শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা। সদাহাস্যজ্বল, লাবণ্যময়ী ও সহজ-সরল চরিত্রের অধিকারী প্রিয় ছাত্রী পলি মার নিজ হাতে আঁকা এই শ্রদ্ধার্ঘ্য সত্যি অন্তর ছুঁয়ে গেল। অনেক বড় হও প্রিয় পলি মা। পরিশেষে বলবো প্রিয় পলি মা তুমি তোমার আপন প্রতিভাকে সযত্নে লালন পালনের মাধ্যমে এগিয়ে যাও দূর বহুদূর এই আত্মিক কামনা ও স্নেহাশীর্বাদ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

এই প্রতিভা যেন থাকে সযত্নে

Update Time : ০৫:৪০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Print

★ শ্রী সুপণ বিশ্বাস (স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম)

বিশ্ববরেণ্য কিংবদন্তী মহামানব মহাত্মা স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন…….You are the creator of your Own destiny. All power is within you. You can do anything and everything. (তুমিই তোমার ভাগ্যের নির্মাতা।তোমার মধ্যে সমস্ত শক্তি নিহিত আছে। তুমি করতে পারো যেকোন কিছু এবং সবকিছু)
ব্যক্তিজীবনে, সমাজ জীবনে এবং জাতীয় জীবনে আমাদের অগণিত সমস্যা এবং প্রতিবন্ধকতা। জনসংখ্যার ভয়াবহ বিস্ফোরণে দেশের অর্থনীতি ভারাক্রান্ত। স্বাধীনতার এত বছর পরেও জনগণের বিরাট অংশের বাস দারিদ্র সীমার নীচে। ব্যাপক হারে কর্মহীনতা বিরাজমান। সুদীর্ঘ কাল সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের শাসনশোষণ এবং প্রবঞ্চনায় জাতীয় প্রাণশক্তি স্তিমিত, পশ্চিমা পাক বাহিনীর চরম বঞ্চনা ও শোষণে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড এখনো জীর্ণপ্রায়। ব্রিটিশ কর্তৃক শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন হয়েছিল সুযোগ্য আজ্ঞাবাহী কিছু কেরানী সৃষ্টির লক্ষ্যে। ফলে আজও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকাংশে সেই একই উদ্দেশ্য সাধন করে চলেছে। ফলশ্রুতিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের বৈচিত্রপূর্ণ মেধার যেমন পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার হচ্ছে না, তেমনি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সম্প্রদায়ও আবদ্ধ হয়ে আছে সীমাবদ্ধ কতগুলো বৃত্তি বা পেশার মাঝে। ব্রহ্মাণ্ডে অজস্র সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র আজও রয়ে গেছে অব্যবহৃত।সম্ভবত যুগোপযোগী আধুনিক এবং প্রযুক্তিসমন্বিত কর্মমুখী শিক্ষা এবং তার সাথে সাথে বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার আমাদের জাতীয় জীবনে পরিবর্তন সূচিত করবে। দেশ হতে অভিশপ্ত কর্মহীনতার হতাশা হ্রাস পাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।শুধু বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে মূল্যবান সার্টিফিকেট সংগ্রহ নয়,অথবা তথাকথিত গৌরবমণ্ডিত শিক্ষায়তনের বড় ডিগ্রি হাসিল নয়,বরং প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, বাস্তবধর্মী জীবনঘনিষ্ঠ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবন সংগ্রামের জন্যে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। ইচ্ছে শক্তি প্রকট হলে পাহাড়সম সমস্যাকেও অতিক্রম করে সফলকাম হওয়া যায়। সে রকম একজন প্রচণ্ড ইচ্ছেশক্তি সম্পন্না বহুমুখী প্রতিভার কথাই আজকের লেখার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।শ্রীমানি পলি দত্ত। সদাহাস্যজ্বল, সহজ সরল জীবনযাপনে অভ্যস্থ, লাবণ্যময়ী ও আদুরে মেয়ে পলি। মা সীমা দত্ত, বাবা আশীষ দত্তের দ্বিতীয় তম সন্তান। একভাই দুই বোনের মধ্যে পলি দ্বিতীয়। পলি বুড়ি, পলি মা,পলিস গ্যালারী নানা নামে তাকে আমি ডাকি। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিনাজুরী গ্রামের মেয়ে পলি। বৃক্ষরাজির অপূর্ব প্রকৃতি ঘেরা ঐতিহ্যবাহী দত্ত বাড়ির মেয়ে পলি অজপাড়াগাঁয়ে থেকে আপন প্রতিভার দ্যুতি ছড়াচ্ছেন নানাভাবে। রাউজান সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মিতালী সংঘ কর্তৃক পরিচালিত বিনাজুরী সনাতনী গীতা সংঘের মেধাবী ছাত্রী পলি মা পড়ালেখার পাশাপাশি ধর্মচর্চা, বৃক্ষরোপণ, রান্নাবান্না, বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন, ফেব্রিক্সের কাজ, বুটিক্স, সেলাই, আলপনা, হোমমেইডের কাজ, বিয়ে সম্পর্কিত বিভিন্ন সামগ্রী অংকন,নৃত্য, বাগান করা, ভজনকীর্তন সহ বহুমুখী বিদ্যায় পারদর্শী। ছোটবেলা থেকেই পলি মার চিত্রাঙ্কনে ঝুঁক। তার মুখে জানতে পারলাম আর্টে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। সখের বসে নিজ থেকেই শিখেছে সব। ছোটো থেকে আর্ট শিখার প্রচণ্ড ইচ্ছে থাকলেও আর্থিক অবস্থার কারণে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিখতে পারে নাই। মা বাবার পাশাপাশি পারিবারিক দুই ভালো দিদি মুন্না দত্ত, মুন দত্তই তার সমস্ত কাজের অনুপ্রেরণা দানকারী। প্রিয় মামণি পলির ভবিষ্যৎ স্বপ্ন হলো যদি পারিবারিক, পারিপার্শ্বিক, সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় কোন সহযোগিতা পাওয়া যাই তাহলে হাতের কাজ দিয়ে একটা বিজনেস প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা।আমার বুদ্ধির বয়স হতে যেকোন প্রতিভাকে মূল্যায়ণ ও প্রতিভাবানদের প্রতি আমার একটা বড় ধরণের দুর্বলতা রয়েছে। আমি অন্তর থেকে বিশ্বাস করি প্রতিভা স্বয়ং মহান ঈশ্বর প্রদত্ত। প্রতিভাবানদের বিধাতা একটু ভিন্নভাবে ভালোবাসেন, আঁকড়ে রাখেন আবার তাঁদের মানসিকভাবে শক্তপোক্ত ও সুদৃঢ় করতে পরীক্ষাও বেশি করেন। প্রতিভার যথাযথ যত্ন-লালন-পালনে জগতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হয়। পুরো বিশ্বের পরতে পরতে পলির মত কত শত প্রতিভা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আত্মকেন্দ্রিক সমাজে হয়তোবা তাদের খবর নেওয়ার সময় আমাদের হয়ে উঠেনা কিংবা ইচ্ছেও থাকেনা। পারিবারিক অস্বচ্ছলতা,অনুপ্রেরণার অভাবে,উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে, সামাজিকভাবে অনুদ্যোগের কারণে অকালে এমন প্রতিভা ঝড়ে পরে।
আমি সমাজের উচ্চ মধ্যবিত্ত ও বিত্তবানদের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করে বলবো কয়দিন বাঁচবেন তাই আসুন না নিজেদের অর্জিত সম্পদ হতে বিন্দু বিন্দু সহযোগিতা করে পলির মত প্রতিভাদের বিশ্বজয়ী হওয়ার স্বপ্ন গুলো পূরণে একটু সহযোগী হই। ভগবান না করুক হয়তোবা দেখবেন নিজেদের সন্তান একটা সময়ে আপনাকে বোজা মনে করে অযত্নে, অবহেলায় ও অবজ্ঞায় ছুঁড়ে ফেলে দিবে; সে কঠিন সময়ে বিধাতা হয়তো জীবনে যে ভাল কাজগুলো করেছেন তার ফলস্বরূপ তথা প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করার ক্ষেত্রে সহযোগী ভূমিকা পালনের জন্যে সে পরের সন্তানদের হাতেই আপনার শেষ জীবনের সেবা পাওয়ার সৌভাগ্য লিখে রেখেছেন। কারণ জীবন বড় রহস্যময়, কার কখন কি হয় কেও জানেনা। আমি গর্বিত এমন উদ্যোগী, উদ্যোমি, পরিশ্রমী, অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিভাসম্পন্না ছাত্রীর শিক্ষক হতে পেরে। একজন শিক্ষকের সবচেয়ে উত্তম প্রাপ্তি হচ্ছে শিক্ষার্থীর ভালোবাসা,
সম্মান, শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা। সদাহাস্যজ্বল, লাবণ্যময়ী ও সহজ-সরল চরিত্রের অধিকারী প্রিয় ছাত্রী পলি মার নিজ হাতে আঁকা এই শ্রদ্ধার্ঘ্য সত্যি অন্তর ছুঁয়ে গেল। অনেক বড় হও প্রিয় পলি মা। পরিশেষে বলবো প্রিয় পলি মা তুমি তোমার আপন প্রতিভাকে সযত্নে লালন পালনের মাধ্যমে এগিয়ে যাও দূর বহুদূর এই আত্মিক কামনা ও স্নেহাশীর্বাদ।