ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

*চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদায় পরীক্ষামূলক রঙিন ফুলকপি চাষে আব্দুল্লাহর সফলতা*

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

*চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদায় পরীক্ষামূলক রঙিন ফুলকপি চাষে আব্দুল্লাহর সফলতা*
মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:-স্বাদ, স্বাস্থ্য গুণ ও বাজারদর ভালো হওয়ায় নতুন জাতের রঙিন ফুলকপির চাষে দামুড়হুদা উপজেলার কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপি চাষ করে উপজেলা সদর ইউনিয়নে কৃষক আব্দুল্লাহ সফল হওয়ার তাদের মধ্যে এই চাষে আগ্রহ বেড়েছে। আব্দুল্লাহ মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে ৩ হাজার চারা রোপণ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তার রঙিন ফুলকপি চাষ সাফল্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রঙিন ফুলকপির সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই তার খেতে ভিড় করছেন কৃষকসহ উৎসুক গ্রামবাসী। অনেকে খেত থেকে সরাসরি ফুলকপি কিনছেন আবার কেউ কেউ চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, নিজের ২০ শতক জমিতে পরীক্ষা মূলকভাবে এই রঙিন ফুলকপি চাষ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে চাহিদা থাকায় বেশ লাভবান হবেন বলে আশাবাদী তিনি। আব্দুল্লাহ জানান, মাঝারি আকৃতির একেকটি ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ‘নিরাপদ উচ্চ মূল্য ফসল চাষ’ স্লোগানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবারই প্রথম দামুড়হুদায় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রঙিন ফুলকপি চাষ করেন তিনি। চারা রোপণ থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত পরিচর্যা ও জৈবসারসহ মোট খরচ হয়েছিল ৬ হাজার টাকা।
আরেক কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, আব্দুল্লাহ ভাইয়ের রঙিন ফুলকপি দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। এর চাষপদ্ধতি সম্পর্কে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়েছি। আগামীতে আমিও এই রঙিন ফুলকপি চাষ করবো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রথম রঙিন ফুলকপি চাষ শুরু করে। তবে দামুড়হুদায় এবারই প্রথম এর চাষ হচ্ছে। চারা রোপণের ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে জমি থেকে ফসল উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের কৃষি সম্প্রসারণ ব্লক সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলক চাষের জন্য কৃষক আব্দুল্লাহকে রঙিন ফুলকপির চারা দেওয়া হয়েছিল। ফলন ভালো হওয়ায় আরও অনেকে এই চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। রঙিন ফুলকপির চারাসহ বিভিন্ন পরামর্শের জন্য কৃষকরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, বাজারে নতুন আসা বেগুনি রঙের ফুলকপিতে রয়েছে বিটা কেরোটিন; যা শরীরে ভিটামিন ‘এ’-তে পরিণত হয়। আর রক্তবর্ণ ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্থোসাইয়ানিন; যা শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া ভিটামিন ‘সি’-এর প্রাচুর্যসহ সাধারণ ফুলকপির সব পুষ্টিগুণ উপাদানই এতে রয়েছে। রঙিন ফুলকপি দেখতেও সুন্দর বাজারে দামও বেশি এ জন্য কৃষকরা এই ফুলকপি চাষে আগ্রহী হচ্ছে। আমরাও বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। এই পত্রিকার মূল স্লোগান হলো "সত্য প্রকাশে আপোষহীন"।আমরা এ দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের কথা বলি।একজন অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে অন্যায় প্রতিরোধে সাহায্য করতে আমরা সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র পত্রিকা গনমানুষের কথা বলে।
ট্যাগস :

*চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদায় পরীক্ষামূলক রঙিন ফুলকপি চাষে আব্দুল্লাহর সফলতা*

আপডেট সময় : ০৩:১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪

*চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদায় পরীক্ষামূলক রঙিন ফুলকপি চাষে আব্দুল্লাহর সফলতা*
মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:-স্বাদ, স্বাস্থ্য গুণ ও বাজারদর ভালো হওয়ায় নতুন জাতের রঙিন ফুলকপির চাষে দামুড়হুদা উপজেলার কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপি চাষ করে উপজেলা সদর ইউনিয়নে কৃষক আব্দুল্লাহ সফল হওয়ার তাদের মধ্যে এই চাষে আগ্রহ বেড়েছে। আব্দুল্লাহ মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে ৩ হাজার চারা রোপণ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তার রঙিন ফুলকপি চাষ সাফল্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রঙিন ফুলকপির সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই তার খেতে ভিড় করছেন কৃষকসহ উৎসুক গ্রামবাসী। অনেকে খেত থেকে সরাসরি ফুলকপি কিনছেন আবার কেউ কেউ চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, নিজের ২০ শতক জমিতে পরীক্ষা মূলকভাবে এই রঙিন ফুলকপি চাষ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে চাহিদা থাকায় বেশ লাভবান হবেন বলে আশাবাদী তিনি। আব্দুল্লাহ জানান, মাঝারি আকৃতির একেকটি ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ‘নিরাপদ উচ্চ মূল্য ফসল চাষ’ স্লোগানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবারই প্রথম দামুড়হুদায় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রঙিন ফুলকপি চাষ করেন তিনি। চারা রোপণ থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত পরিচর্যা ও জৈবসারসহ মোট খরচ হয়েছিল ৬ হাজার টাকা।
আরেক কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, আব্দুল্লাহ ভাইয়ের রঙিন ফুলকপি দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। এর চাষপদ্ধতি সম্পর্কে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়েছি। আগামীতে আমিও এই রঙিন ফুলকপি চাষ করবো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রথম রঙিন ফুলকপি চাষ শুরু করে। তবে দামুড়হুদায় এবারই প্রথম এর চাষ হচ্ছে। চারা রোপণের ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে জমি থেকে ফসল উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের কৃষি সম্প্রসারণ ব্লক সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলক চাষের জন্য কৃষক আব্দুল্লাহকে রঙিন ফুলকপির চারা দেওয়া হয়েছিল। ফলন ভালো হওয়ায় আরও অনেকে এই চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। রঙিন ফুলকপির চারাসহ বিভিন্ন পরামর্শের জন্য কৃষকরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, বাজারে নতুন আসা বেগুনি রঙের ফুলকপিতে রয়েছে বিটা কেরোটিন; যা শরীরে ভিটামিন ‘এ’-তে পরিণত হয়। আর রক্তবর্ণ ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্থোসাইয়ানিন; যা শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া ভিটামিন ‘সি’-এর প্রাচুর্যসহ সাধারণ ফুলকপির সব পুষ্টিগুণ উপাদানই এতে রয়েছে। রঙিন ফুলকপি দেখতেও সুন্দর বাজারে দামও বেশি এ জন্য কৃষকরা এই ফুলকপি চাষে আগ্রহী হচ্ছে। আমরাও বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।