পাকা ধান ঘরে তুলতে আগৈলঝাড়ায় দিনরাত এক করছেন কৃষকেরা
- Update Time : ১০:১১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / ২২ Time View

মো:আশরাফ,বরিশাল ক্রাইম রিপোর্টার:
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় উপজেলার মাঠ জুড়ে এখন পাকা ইরি ধানের সোনালী আভা।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় আগৈলঝাড়ার কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে চরম ব্যস্ত। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালী ধান কাটছেন কৃষকরা। ধান পাকার পরে কিছু দিন ভালই ছিলো এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেল কালবৈশাখীর তাণ্ডব ক্ষতিগ্রস্ত পাকা ধান, বিপাকে চাষিরা।
ধান কাটা, মাড়াই ও শুকিয়ে ঘরে তোলার কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকরা দলবদ্ধভাবে ধান কাটছেন। কোথাও ধান কাটা হচ্ছে হাতে, আবার কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক হারভেস্টার মেশিন। মাঠের পাশে কিংবা বাড়ির আঙিনায় ধান মাড়াই ও শুকানোর দৃশ্য এখন চোখে পড়ার মতো। নতুন ইরি ধানের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।
উপজেলার গৈলা ইউনিয়ন ৬নং ওয়াডের কৃষক বাবু সরদার বলেন এবার গতবারের তুলনায় ফসল ভালো হয়েছে। তবে প্রথমের দিকে জ্বালানি তেলসংকটে থাকায় কৃষক বিপাকে পড়লেও এখন তা কাটিয়ে সচল হয়েছে।
কৃষক হান্নান সরদার বলেন, এমনিতেই খরা তার উপরে মরা,এবার উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না এরই মধ্যে কালবৈশাখীর তাণ্ডব।
এমন অবস্থায় চিন্তার ভাঁজ পড়ছে কৃষকের কপালে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আগৈলঝাড়া উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ৯৬১৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে এবং ফলনও সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মতো পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.ইসা জানান,এখন পর্যন্ত ৯৫০ হেক্টর জমির পাকা ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন ইতিমধ্যে কৃষকদের মাঝে ১২৫০০লিটার ডিজেল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদেরকে ফুয়েল কাট করে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক কৃষকদের মাঝে ধান মাড়াই এর মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। “ধান কাটার এই মৌসুমে কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও যাতে ধান ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।”
এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত ধান কাটা ও ঘরে তোলা শেষ করতে চান কৃষকরা। কারণ অকাল বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকায় তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না।
সব মিলিয়ে, আগৈলঝাড়ার কৃষকদের মধ্যে এখন চলছে ব্যস্ততা আর স্বস্তির এক মিশ্র চিত্র। ভালো ফলনের আশায় তারা ঘরে তুলছেন সোনালী ফসল।














