সংস্কারের আগে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন জরুরি: রাশেদ খান

- আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ ১৫ বার পড়া হয়েছে

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, জাতীয় সংলাপ আহ্বান করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ জন্য সরকারি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আজ শনিবার সকালে ঝিনাইদহের লা এলিমেন্তো নামের একটি ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্টে জেলার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, সরকারের একজন উপদেষ্টা যাকে মুখপাত্র বলা হয়। মাহফুজ আলম বলেছেন, সরকার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারে না- তিনি এ ব্যাপারে অভিযোগ করে বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্তাদের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে, সেক্টরে পূনবার্সিত করা হয়েছে। এমনকি উপদেষ্টা বানানো হয়েছে। তখন কি জনগণের ম্যানডেট লেগেছিল।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে কেন এখন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে সরকার একক সিন্ধান্ত নিতে পারবেন না। সরকার তো সিদ্ধান্ত নিলে রাজনীতিবিদদের কোন আপত্তি নেই।
সভায় গণ অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক ইকবাল জাহিদ রাজন, সদর উপজেলা সভাপতি হালিম পারভেজ, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লা আল-মামুন, সাধারণ সম্পাদক রিহান হোসেন রায়হান ও পৌর গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।
রাশেদ খাঁন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরৎ চাওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য দেওয়া হয়নি। আমরা সব সময় দাবি জানিয়েছি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে। শুধুমাত্র শেখ হাসিনা না। শেখ হাসিনার যারা সাঙ্গ পাঙ্গ ছিল। ওবায়দুল কাদের থেকে শুরু আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, হাসান মাহমুদদেরকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রতিটি অপরাধীকে অবশ্যই ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আশ্রয় প্রশয় নিয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।
আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই তিনি সেই তৎপরতা বৃদ্ধি করেছেন এবং শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আন্তরিক ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার আশে-পাশে যারা রয়েছে তারা কি আদৌও শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুক বা আনা হোক সেক্ষেত্রে তারা কি ভূমিকা রাখতে চায় না। আপনারা যদি রাষ্ট্র সংস্কার করতে চান তাহলে সবার আগে উপদেষ্টা পরিষদের সংস্কার করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা একজন উপযুক্ত লোক। কিন্তু তার আশপাশে যদি যোগ্যতা সম্পন্ন বা অভিজ্ঞ লোক না থাকে তাহলে প্রধান উপদেষ্টার যতই আন্তরিক থাকুন না কেন, তিনি সফল হতে পারবেন না। তাহলে রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার, হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসিতে ঝুলানো, অন্যান্য অপরাধীদের বিচার করা সেটি কিন্তু সম্ভব হবে না। আমরা প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাচ্ছি না। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদে আওয়ামী লীগের দোসরা রয়েছে। তাদেরকে নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। দেশের জনগণের প্রশ্ন রয়েছে।