চিত্রপটে চিত্রকৃৎ ৩.০: নোবিপ্রবিতে ৪৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০০ শিল্পকর্মের প্রদর্শনী
- Update Time : ০৮:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫ Time View

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) চিত্রকৃৎ-এর আয়োজনে দুই দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনী ‘চিত্রপটে চিত্রকৃৎ ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে নোবিপ্রবিসহ দেশের ৪৫টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ৩০০টির বেশি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হাসান উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজক কমিটি জানায়, প্রদর্শনীতে ১১২ জন শিল্পীর ৩০০টির বেশি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে নোবিপ্রবির ৩৬ জন শিক্ষার্থী এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শনীতে চিত্রকর্ম, আর্টওয়ার্ক ও ফ্রেমবন্দি বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে একটি শিল্পকর্মের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ টাকা। এ ছাড়া লাখ টাকার বেশি মূল্য নির্ধারিত আরও কয়েকটি শিল্পকর্ম রয়েছে। প্রদর্শনী চলাকালেই বেশ কিছু শিল্পকর্ম বিক্রি হয়েছে।আয়োজক কমিটির সদস্য অর্পিতা পোদ্দার অর্পণ বলেন, “প্রদর্শনীতে নানা ধরনের চিত্রকর্ম, আর্টওয়ার্ক ও ফ্রেমবন্দি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে একটি শিল্পকর্মের মূল্য চার লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈচিত্র্যময় এসব শিল্পকর্ম প্রদর্শনীকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে এবং দর্শনার্থীদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করেছে।”প্রদর্শনীর শিল্পকর্ম মূল্যায়নে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা অজয় দত্ত ও ইসমাত আরা সোমা।প্রদর্শনী ঘুরে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সিমান্ত বলেন, “চিত্রকৃৎ আয়োজিত এ চিত্রপ্রদর্শনীটি অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয়। এখানে বিভিন্ন ধরনের চিত্রকর্ম ও নান্দনিক ডিজাইন দেখতে পাচ্ছি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়ে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরেছেন। এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের সাধুবাদ জানাই।”প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত শরীফ সাবিহা বলেন, “এটি আমার প্রথম কোনো চিত্রপ্রদর্শনী পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে প্রথমবার নিজের আঁকা ছবি নিয়ে কোনো প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছি। অন্যদের শিল্পকর্ম দেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা ছবি নিয়ে মতামত বিনিময়ের অভিজ্ঞতাও হয়েছে।”চিত্রকৃৎ-এর সভাপতি শান্তা দেবনাথ বলেন, “মাত্র ২০ দিনের প্রস্তুতিতে প্রায় ১২২ জন শিক্ষার্থীর সাড়া পাওয়া গেছে এবং তাদের কাছ থেকে ৩০০টির বেশি শিল্পকর্ম সংগ্রহ করা হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের শিল্পকর্মও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—দুই ক্যাটাগরির বেশ কিছু শিল্পকর্ম বিক্রি হয়েছে।”তিনি আরও জানান, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ঢাকা ও মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে এসেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. শিবলুর রাহমান বলেন, “প্রদর্শনীতে শিশু, শিক্ষার্থী ও প্রাপ্তবয়স্কদের শিল্পকর্মের মধ্যে যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। মানুষ তার অনুভূতি ও চিন্তাভাবনা বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে। কেউ লেখার মাধ্যমে, কেউ বইয়ের মাধ্যমে, আবার কেউ ছবি আঁকার মাধ্যমে। এ প্রদর্শনীতে সেই ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশের ধরনগুলো দেখতে পেরে ভালো লেগেছে।”আয়োজকরা জানান, একই পৃথিবীকে মানুষ নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিন্নভাবে দেখে—এই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি ও ভাবনা রং, রেখা ও তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই বৈচিত্র্যময় শিল্পভাবনাকে একত্র করে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরাই ছিল ‘চিত্রপটে চিত্রকৃৎ ৩.০’ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

























