১২৪ বছরের বৃদ্ধের কান্নায় আকাশ ভারী: ১ হাজার টাকা নেই বলে রহিম উদ্দিনের কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতা!
- আপডেট সময় : ০২:৪০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

নবাব, রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার নিজস্ব রংপুরঃ
চোখ দুটো ঝাপসা, শরীরটা যেন অচল এক জীবন্ত কঙ্কাল। বয়স ১২৪ বছর—এক শতাব্দী পেরিয়ে আরও দুই যুগেরও বেশি সময় পার করেছেন রহিম উদ্দিন। যে বয়সে রাষ্ট্রীয় পরম মমতায় তার ঘরে অন্ন আর ওষুধ পৌঁছানোর কথা, সেই বয়সে এসে তাকে লড়তে হচ্ছে মাত্র ১ হাজার টাকার এক অদৃশ্য দেওয়ালের বিরুদ্ধে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) বুলবুলের দিকে। সামান্য ১ হাজার টাকা ঘুষ দিতে না পারায় এই শতবর্ষী বৃদ্ধের ভাগ্যে আজও জোটেনি একটি সরকারি বয়স্ক ভাতার কার্ড। মানবিকতা আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, যেখানে ১২৪ বছরের বৃদ্ধের চোখের জলও এক জনপ্রতিনিধির মন গলাতে পারে না!
রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুরিয়া শরীফ গ্রামের মৃত মনোর উদ্দিনের ছেলে রহিম উদ্দিন। তার জরাজীর্ণ হাতে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রটি যেন আজ তার সাথে বিদ্রূপ করছে। পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ১২৪ বছর হলেও, মেম্বার বুলবুলের দুর্নীতির কাছে সেই বয়সের কোনো মূল্য নেই।
ভুক্তভোগী রহিম উদ্দিনের ভাঙা কণ্ঠের আর্তনাদ, “বাবা, এই বয়সে এখন ভিক্ষা করি খাই। মেম্বার কার্ড করে দেওয়ার জন্য ১ হাজার টাকা চাইছে। মুই টাকা পাইমো কোটে? টাকা দিবার পাই নাই দেখে মেম্বার মোর কার্ডটাও দেয় নাই।” সামান্য ১ হাজার টাকা এই বৃদ্ধের কাছে আজ পাহাড় সমান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের এবং অসুস্থ স্ত্রীর মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে যাকে অন্যের দুয়ারে হাত পাততে হয়, তার কাছে ১ হাজার টাকা যেন এক আকাশ সমান দূরত্ব।
আজকের এই আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য শুধু অকল্পনীয় নয়, চরম লজ্জার। রহিম উদ্দিন এখন শুধু নিজের ক্ষুধার জন্য নয়, ঘরে শয্যাশায়ী অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্যও মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চেয়ে ফিরছেন। লাঠিতে ভর দিয়ে থরথর করে কাঁপা পায়ে যখন তিনি রাস্তায় হাঁটেন, তখন মনে হয় আমাদের সমাজ আর শাসনব্যবস্থাটাই যেন পঙ্গু হয়ে গেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষোভ আর কান্নায় বলছেন, “জনগণ আজ কার কাছে যাবে? যেখানে একজন জনপ্রতিনিধির কাছে ১২৪ বছরের বৃদ্ধের চোখের পানির চেয়ে ১ হাজার টাকার দাম বেশি, সেখানে সাধারণ মানুষের আর যাওয়ার জায়গা কোথায়?”
এই ন্যক্কারজনক ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো বড়বিল ইউনিয়নে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। একজন শতবর্ষী মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই ধৃষ্টতা মেম্বার বুলবুল কোথায় পেলেন? কেন প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এমন দুর্নীতি চলছে বছরের পর বছর?
১. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহিম উদ্দিনের হাতে বয়স্ক ভাতার কার্ড এবং পূর্বের বকেয়া টাকা তুলে দিতে হবে।
২. ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ দাবির অপরাধে অভিযুক্ত মেম্বার বুলবুলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
যাদের জনগণের সেবক হওয়ার কথা ছিল, তারা আজ শোষকের ভূমিকায়। ১২৪ বছরের এক বৃদ্ধের হাহাকার যদি আজ প্রশাসনের কানে না পৌঁছায়, তবে আমরা কি সত্যিই এক সভ্য সমাজে বাস করছি? এই অবিচারের শেষ কোথায়?



















