সোনাগাজীতে প্রবাসীর বাড়িতে সিরিজ হামলা ও অগ্নিসংযোগ — আতঙ্কে পুরো গ্রাম
- আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ হানিফ,স্টাফ রিপোর্টার ফেনীঃ
কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডবের অভিযোগ, বসতঘর পুড়িয়ে ছাই, ফসলি জমি ধ্বংস — দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা।
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ২ নং বগাদানা ইউনিয়নের পূর্ব বড় হালিয়া গ্রামে ২ নং ওয়ার্ডের প্রবাসী মোহাম্মদ হানিফের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর এক সহিংস ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসী এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ রমজান থেকে শুরু করে অজ্ঞাত একদল কিশোর গ্যাং সদস্য ধারাবাহিকভাবে এই হামলাগুলো চালিয়ে আসছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন হামলার ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েই চলেছে।
8
প্রবাসী মোহাম্মদ হানিফ, যিনি একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার সোনাগাজী উপজেলা সদস্য হিসেবেও যুক্ত, অভিযোগ করেন— হামলাকারীরা কয়েক দফায় তার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ গত গভীর রাতে তার বসতবাড়ির রান্নাঘরে আগুন লাগিয়ে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এতেই শেষ নয়— হামলাকারীরা তার ফসলি জমিতেও আগুন লাগিয়ে দেয়, যার ফলে সব ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। এতে পরিবারটি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী কামরুজ জাহান জানান, “আমরা চরম আতঙ্কে আছি। আমার মেয়েদের নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারছি না। প্রতিদিনই ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।”
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামলার পেছনে কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও স্থানীয়দের ধারণা, এলাকার কিছু বখাটে কিশোর গ্যাং সদস্য এই তাণ্ডব চালিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া ও মোহাম্মদ আজিম জানান, “কে বা কারা এসব করছে আমরা নিশ্চিত না, তবে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছি।”
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় একটি তদন্ত দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দলে ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবুল কাশেম এবং সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ। তাদের সঙ্গে ফেনী জেলা তথ্য অফিসার ওসমান এবং স্থানীয় সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তকারী দল স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ ও মোহাম্মদ ইসমাইল বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে হামলার বিষয়ে তথ্য যাচাই করেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর আহ্বান— দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, নইলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।



















