ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় জন্ম সনদ জালিয়াতি প্রস্তুতকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাসহ ২ জন গ্রেফতার

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / ১৫ Time View
Print

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ,স্টাফ রিপোর্টার:-
চুয়াডাঙ্গা দর্শনার বেগমপুর ইউনিয়নে পরিষদে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরির ঘটনায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) সকালের দিকে ইউনিয়নে পরিষদে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা মো. আরিফুল ইসলাম (৩০)। বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা মো: আরিফুল ইসলাম (৩০)। তারা দীর্ঘদিন অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের ভুয়া ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ দেওয়া হতো। ৭ মে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন।সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন- যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন, এমনকি স্থানীয়রাও তাদের চেনেন না। ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর পরেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলা করেন।চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা হবে। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, ইউএনও তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

চুয়াডাঙ্গায় জন্ম সনদ জালিয়াতি প্রস্তুতকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাসহ ২ জন গ্রেফতার

Update Time : ০৮:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
Print

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ,স্টাফ রিপোর্টার:-
চুয়াডাঙ্গা দর্শনার বেগমপুর ইউনিয়নে পরিষদে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরির ঘটনায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) সকালের দিকে ইউনিয়নে পরিষদে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা মো. আরিফুল ইসলাম (৩০)। বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা মো: আরিফুল ইসলাম (৩০)। তারা দীর্ঘদিন অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের ভুয়া ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ দেওয়া হতো। ৭ মে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন।সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন- যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন, এমনকি স্থানীয়রাও তাদের চেনেন না। ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর পরেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলা করেন।চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা হবে। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, ইউএনও তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।