৭ বছর পর ধরা পড়ল দুর্ধর্ষ খুনি নুর আলম তিন-বাড়িয়া- সোনাপুর
- আপডেট সময় : ০২:১৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ হানিফ,স্টাফ রিপোর্টার ফেনীঃ
দীর্ঘ সাত বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে আলোচিত কিশোর শামীম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নুর আলম (৪২)। মঙ্গলবার দুপুরে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি টয়লেট থেকে নাটকীয়ভাবে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত নুর আলম আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর-তিন বাড়িয়া রহমত নগর গ্রামের মৃত খায়েজ আহমদের ছেলে। তিনি ২০১৯ সালে সংঘটিত কিশোর শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের একজন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোর শামীম
নিহত শামীম (১৫) ছিলেন সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চরশাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ১১ আগস্ট রাতে নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে সোনাপুর তিন বাড়িয়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে।
সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও দীর্ঘদিন ধরেই আসামিরা ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে।
নতুন অভিযোগে ফের আলোচনায় নুর আলম
গ্রেফতারের দিনই নুর আলমের বিরুদ্ধে নতুন করে চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা না পেয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা রাকিব হোসেন (২২) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত রাকিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়ে চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নুর আলম পালিয়ে হাসপাতালের টয়লেটে লুকিয়ে পড়ে। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান,
“গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়
দীর্ঘদিন পর মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারও এই গ্রেফতারকে ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
এই গ্রেফতার শুধু একটি মামলার অগ্রগতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভয়ের অবসান ও ন্যায়বিচারের আশার নতুন আলো জাগিয়েছে সোনাগাজীতে।



















