
মো:আশরাফ,বরিশাল ক্রাইম রিপোর্টার:-
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় অবৈধভাবে শিকার করা বিপুল পরিমাণ গলদা চিংড়ির রেনু পাচারের সময় ৩৬ ড্রাম রেনুসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ পাচারকারীকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি উদ্ধার করা চিংড়ি রেনুগুলো উপজেলার বিভিন্ন খাল ও নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
রোববার ভোরে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ডিএসবি ছয়গ্রাম সড়কের দত্তেরাবাদ এলাকায়
একটি ট্রাক থেকে এসব রেনু জব্দ করা হয়। পরে সকালে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক জানান, ভোলার দৌলতখান এলাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি ট্রাকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা গলদা চিংড়ির রেনু পাচার করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৭টার দিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বরিশাল জোনের পিও মেট আমজাদ হোসেন এর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটা টিম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ৩৬টি ড্রামে ভর্তি বিপুল পরিমাণ চিংড়ি রেনুসহ ট্রাকটি আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন ভোলা সদর উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সুলতান বেপারীর ছেলে আলামিন বেপারী (২৫), ধনিয়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে আমির হোসেন (৫০), দৌলতখান এলাকার ছিন্টু হোসেনের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৪৫), চরমনসা এলাকার জামাল উদ্দিন জোমাদ্দারের ছেলে তাহিন জোমাদ্দার (২৮) এবং রামদাসপুর এলাকার সাহাবুদ্দিন বেপারীর ছেলে কালু বেপারী (৩৫)। ভ্রাম্যমান আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে জব্দ করা রেনুগুলো স্থানীয় বিভিন্ন খাল ও নদীতে অবমুক্ত করা হয়, যাতে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা যায়। অভিযানকালে আগৈলঝাড়া থানা এর এসআই সমীরসহ মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে চিংড়ির রেনু আহরণ ও পাচারের কারণে নদী ও জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।