
রাকিব মাহী, জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চার শিক্ষাবর্ষের( ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৯-২০) বিভিন্ন অনুষদের ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর ও সিজিপিএ অর্জন করায় দেয়া হয়েছে ডিনস অ্যাওয়ার্ড।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এমপি,শিক্ষা সচিব আাব্দুল খালেক, ট্রেজারার ড. সাবিনা শরমীন,শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মনজুর মোর্শেদ ভূইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পর প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করে এবং তাদের দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করে। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। নানা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি দেশ ও সমাজের কল্যাণে তাদের মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক বৃত্তি, আবাসন সংকট নিরসন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ডের মতো আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা করেছে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে সবসময় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক বলেন, পুরস্কার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজের স্পৃহা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করে। শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমই জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসসহ সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড ছিল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. পরিমল বালা বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন কোনো সাধারণ সাফল্য নয়; এটি দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও মেধার স্বীকৃতি। তিনি বলেন, এই সম্মান কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং তা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর দায়িত্বও বহন করে। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবদানের কথাও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রক্টর, প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা,ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ , অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান কার্যক্রম এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষতা ও শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।