সোনাগাজী-তে জলদাস পাড়ায় দখলচেষ্টা মন্ত্রীর নির্দেশে জেলেদের পাশে যুবদল নেতারা
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার ফেনী:
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বড় ফেনী নদীর তীরবর্তী জলদাস পাড়ায় খাল দখল ও উচ্ছেদের অভিযোগ ঘিরে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাহমান খালে বাঁধ নির্মাণ এবং সংলগ্ন স্থানে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে মৎস্য ঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নুর আহমদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে প্রায় অর্ধশত জেলে পরিবারের বসতভিটা ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা ও পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান রাসেল হামিদি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত জলদাস পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং জবরদখলের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
৫০ বছরের বসতি, জীবিকার একমাত্র ভরসা নদী
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জলদাস পাড়ায় প্রায় অর্ধশত পরিবার দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নদীর তীরবর্তী সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন। নদীতে মাছ ধরাই তাদের প্রধান জীবিকা। সময়ের পরিক্রমায় নদীর একটি অংশ ভরাট হয়ে বর্তমানে সোনাগাজী ডাঙ্গি খাল প্রবাহমান রয়েছে। এই খাল দিয়েই জেলেদের নৌকা চলাচল করে এবং তীরে ভিড়ে।
পরিবারের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের কারণে অনেকে সড়কের পাশেও অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। এমন পরিস্থিতিতে খালে বাঁধ নির্মাণ ও খনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তাদের নৌকা চলাচল ও মাছ ধরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
‘আমরা নদীতে মাছ ধরে খাই’
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রাঁধেশ্বাম জলদাস, কানন বালা, ভারতী বালা, জগদ্বিশ, মন ও সুমন জলদাস বলেন, “আমরা নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাই। আমাদের উপর কেন এমন অন্যায় করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। খাল বন্ধ হয়ে গেলে আমরা বাঁচবো কিভাবে?”
জেলে পাড়ার নারী-পুরুষরা জানান, খালটি দখল হয়ে গেলে তাদের নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে এবং মাছ ধরা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে পুরো সম্প্রদায় চরম সংকটে পড়বে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, “জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীরে খাস জমিতে বসবাস করছেন। অন্যদিকে নুর আহমদ নিজের নামে রেকর্ড করে প্রবাহমান খাল দখলের চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ পেয়েছি। তাকে খাল দখল ও জেলেদের উচ্ছেদের অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার
তবে উচ্ছেদের অভিযোগ অস্বীকার করে নুর আহমদ বলেন, “জায়গাগুলো আমার নামে রেকর্ড করা। আমি আমার জমি বেদখল হওয়া থেকে রক্ষা করতে সংস্কার কাজ করছি। তারা আমার কাজে বাধা দিচ্ছে। বর্তমানে তারা যেখানে বসবাস করছে, সেখানে আমি কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।”
স্বস্তি জেলেপাড়ায়
যুবদল নেতাদের সরেজমিন পরিদর্শন ও মন্ত্রীর অবস্থানের কথা জানার পর জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের বসতভিটা ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রবাহমান খাল ও নদীর স্বাভাবিক গতি রক্ষা এবং অসহায় জেলে পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং জলদাস পাড়ার মানুষ কতটা নিরাপত্তা ফিরে পান।



















