
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :- সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজ কর্তৃক ধর্মপ্রাণ মানুষকে ‘ধর্মান্ধ’বলে আখ্যায়িত করার অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ২৬ শেষ জুন (শুক্রবার) দুপুর ২টায় পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ডে দেবহাটা উপজেলার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ জনতার উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম ভিত্তি। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার মুখ থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষকে ‘ধর্মান্ধ’বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ধর্মবিশ্বাসী মানুষের হৃদয়ে গভীর কষ্ট ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সকল ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর প্রতি সমান শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করা তাঁর নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করেন। ধর্ম পালন করা কখনোই ধর্মান্ধতার পরিচয় নয়। ধর্মপ্রাণ মানুষকে অবমাননাকর বা বিতর্কিত ভাষায় উপস্থাপন করলে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বক্তারা দাবি করেন, যদি সত্যিই এমন মন্তব্য করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা যেন ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে নিয়ে এমন মন্তব্য না করেন, সে বিষয়ে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই।
শেষে বক্তারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো নয়, বরং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা এবং সকল নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতির মর্যাদা রক্ষা করা। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।